বিজেপি ছাড়া অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে 'হারামজাদা' বা পাপের সন্তানের সঙ্গে তুলনা করে তুমুল আক্রমণের মুখে পড়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের এক প্রতিমন্ত্রী। বিরোধী দলগুলো সংসদে তার ইস্তফা দাবি করেছে।
ভারতের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দফতরের প্রতিমন্ত্রী সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতি সোমবার রাতে দিল্লিতে এক জনসভায় মন্তব্য করেন, ''আপনারা দিল্লিতে রামজাদের (অর্থাৎ রামের সন্তানদের) সরকার চান, না কি হারামজাদের (অর্থাৎ পাপের সন্তানদের) সরকার চান সেটা আপনাদেরই স্থির করতে হবে।''
টিভি চ্যানেল আর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে মন্ত্রীর এই আপত্তিকর মন্তব্য ছড়িয়ে পড়তেই নিন্দার ঝড় ওঠে। সন্ন্যাসিনী মন্ত্রী কিন্তু তার পরেও নিজের ভুল স্বীকার করতে রাজি হননি।
তিনি বরং সাংবাদিকদের বলেন, ''ভারতে রামজাদে বলতে সব ভারতবাসীকেই বোঝায়। কারণ এ দেশে হিন্দুরা তো বটেই - খ্রিস্টান, মুসলিমরাও রামেরই সন্তান। যারা তা মানে না বুঝতে হবে তাদের ভারতের ওপরই কোনও বিশ্বাস নেই।''
কিন্তু মন্ত্রীর এই ব্যাখ্যায় চিড়ে ভেজেনি। বিজেপি নেতৃত্বও এই ঘটনায় যথেষ্ট বিব্রত বোধ করেছেন। মঙ্গলবার সকালে বিজেপির এমপিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠকের সময় এই মন্তব্যের জন্য মোদী সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতিকে কঠোর ভাষায় ভর্ৎসনা করেছেন বলেও জানা গেছে।
এর পর সংসদের অধিবেশনের শুরুতেই বিরোধীরা সমস্বরে মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। সেই প্রতিবাদের মধ্যেই সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতি সংসদকে জানান, তিনি কাউকে আঘাত করতে চাননি। এবং ওই মন্তব্যের জন্য দু:খ প্রকাশ করে তিনি নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন।
বিরোধী দলগুলো অবশ্য এই দু:খপ্রকাশে সন্তুষ্ট হয়নি। কংগ্রেস দাবি তুলেছে, সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতিকে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত করতে হবে।
সিপিএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি রাজ্যসভায় দাবি তুলেছেন, তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করতে হবে। কারণ তিনি যা বলেছেন সেটা একটা ফৌজদারি অপরাধ।
৪৭-বছর বয়সী গেরুয়া-পরিহিতা সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতি উত্তর প্রদেশের ফতেহ্পুর থেকে নির্বাচিত হয়ে এই প্রথমবার লোকসভায় এমপি হয়ে এসেছেন। জেতার মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই তাকে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।
উত্তর ভারতের শহর-গ্রাম-মফস্বল আর টিভি চ্যানেলে ধর্মীয় কথকতা করেই বিপুল পরিচিতি আর জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতি।পার্লামেন্টে ঢোকার পর তিনি বিপাকে পড়লেন সেই কথার ফাঁদে পড়েই। সূত্র: বিবিসি বাংলা
এমএ





