তিনি একজন ইতিহাসবিদ। রাশিয়ার ইতিহাস নিয়ে ১৩টি বই লিখেছেন তিনি। মিউজিয়ামে বক্তৃতা দেয়ার জন্য তার ডাক পড়ে। ১৩টি ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলতে পারেন তিনি।
এ পর্যন্ত পড়ে যে কেউ আনাতোলি মস্কভিন সম্পর্কে কী ধারণা করতে পারেন? জ্ঞানী ইতিহাসবিদ, বিদ্বান ব্যক্তি, যিনি সমাজকে কিছু ফিরিয়ে দিচ্ছেন।
ধারণাটি তাহলে আংশিক সত্য হবে। তিনি জ্ঞানী ও বিদ্বান সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তার এক অদ্ভুত শখের সন্ধান পেয়ে সকলে স্তম্ভিত।
কী তার শখ?
৩ থেকে ১২ বছর বয়স্ক মেয়েদের দেহাবশেষ কবর থেকে তুলে বাড়িতে এনে তা দিয়ে পুতুল বানান তিনি! শুধু এতেই শেষ নয়। সেই পুতুলগুলো নিয়ে ঘর সাজান। তাদের নিয়েই সংসার এই ইতিহাসবিদের। পুতুলগুলোর জন্মদিনে আবার পার্টিও দেন আনাতোলি।
এমন করে প্রায় ১৫০টি দেহাবশেষ তুলে নিয়ে বাড়িতে মমি বানিয়ে রেখেছিলেন তিনি। মমিগুলোকে নিয়ে গানও করতেন। সেই ভিডিও তুলে রাখতেন।
কিন্তু একা থাকতে পছন্দ করা আনাতোলির এই কীর্তি কেউই জানতে পারতেন না যদি না তার বাবা-মা তাকে না জানিয়ে হঠাৎ একদিন বাড়িতে না এসে পড়তেন।
এই কাণ্ড দেখার পর স্বভাবতই তারা পুলিশে খবর দেন। বাড়ি তল্লাসি করে কয়েকটি ভিডিও ও মমিগুলো উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুলিশ। তার সঙ্গে গ্রেফতার হন আনাতোলি।
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, বাড়ির খুব কাছেরই একটি গোরস্থান থেকে দেহগুলো তোলা হয়। আনাতোলি নিজেও একটি কফিনে শুতেন বলে জানিয়েছেন।
শারীরিক পরীক্ষার পর জানা যায়, তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। আদালতে মামলার শুনানিতে বিচারপতি তাকে মেন্টাল হোমে পাঠানো রায় দেন।
ইআর





