দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় ছিলেন এক সময়কার শীর্ষ সন্ত্রাসী মোল্লা ওমর।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও ন্যাটো একযোগে এই শীর্ষ সন্ত্রাসীর মাথার চড়া দাম নির্ধারণ করলেও তাকে ধরা সম্ভব হয়নি।

যে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে সেই ২০০১ সাল থেকে লড়াই করে গেছেন মোল্লা ওমর, সেই মার্কিন বাহিনী তাকে হত্যা বা গ্রেপ্তার করতে না পারলেও, তিনি কিনা মারা গেলেন তালিবান সহযোদ্ধার ধারবাহিক বিষপ্রয়োগে। অনেকদিন ধরেই তিনি কিডনির রোগে ভুগছিলেন।

আর কিডনি সমস্যার জন্য যে ওষুধ তাকে খেতে দেয়া হতো, সেই ওষুধেই ছিল বিষ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এক সময়কার প্রভাবশালী তালিবান নেতাকে কেন বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে?

তালেবানদের সামরিক শাখা মূলত বেশ কয়েকটি ধাপে বিভক্ত। প্রত্যেকটি শাখার সঙ্গে অপর শাখার প্রত্যক্ষ যোগাযোগ না থাকার ফলে আফগানিস্তানে মার্কিনবিরোধী লড়াইয়ে তালেবানরা যথেষ্ট সুবিধা পেলেও, তাদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতারও জন্ম হয়েছে এই কৌশলের কারণে।

এমনকি তালেবান প্রধান মোল্লা ওমরও একটি নিজস্ব সংঘ নিয়ন্ত্রন করতেন। যাদের কাজ ছিল ওমরের কাছ থেকে নির্দেশ গ্রহন করে তা অন্যান্যদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া। আর এই সংঘের নেতৃত্ব ছিল ওমরের প্রধান সহযোগি মোল্লা আখতার মানসুর।

একটা সময় ধরে নেয়া হয়েছিল যে, মোল্লা ওমরের পর তালেবানদের শীর্ষ নেতা হবেন মোল্লা আখতার মানসুর। কিন্তু একটা সময় তিনি বুঝতে পারলেন ওমর জীবিত অবস্থায় তাকে উত্তরাধিকার হিসেবে ঘোষণা দেবেন না।

এই কথা জানার পর আখতার মানসুর তার হাতে থাকা নাইন মিলিমিটার পিস্তল উচিয়ে ধরলেন মোল্লা ওমরের দিকে এবং তাকে উত্তরাধিকার না ঘোষণা করার কারণ জানতে চাইলেন।

কিন্তু মোল্লা ওমর আখতার মানসুরের প্রশ্নের কোনো জবাব না দিয়ে সরাসরি মানসুরের দিকে তাকিয়ে থিাকেন। আর তখনই মানসুর তার হাতে থাকা পিস্তল দিয়ে ওমরের মুখে এবং পাকস্থলিতে দুবার গুলি করেন।

মোল্লা ওমরের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানে তালেবান গোষ্ঠি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। মানসুর মোল্লা ওমরকে হত্যা করার পরেও হত্যার বিষয়টি দীর্ঘদিন বর্হিবিশ্বতো দূরে থাক তালেবান যোদ্ধারাও জানতো না।

মানসুর ও তার অনুসারীরা সুকৌশলে নিজেদের মতামত ওমরের নামে চালাতে থাকে। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি যখন তালেবানদের মধ্যে ছড়িয়ে যায় ততদিনে অনেকটাই দেরি হয়ে গেছে। কারণ ততদিনে তালেবানদের মধ্যে মানসুর তার অনুসারীদের দ্বারা প্রভাব বিস্তার করে ফেলেছে।

আফগানিস্তানে কর্মরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের একজন ডেইলি মিররকে জানান, ‘এর ফলাফল খুব একটা ভালো হবে না। এই অঞ্চলে মানসুরের আধিপত্য পুনরায় রক্তাক্ত অধ্যায়ের সূচনা করবে। আফগানিস্তান ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পরতে পারে। আর সঙ্গে সঙ্গে বাকী বিশ্বও যুক্ত হয়ে যেতে পারে।’

অবশ্য শুরুর দিকে দাবি করা হয়েছিল যে, ওমরকে আফগান শহর কান্দাহারে বিষপ্রয়োগ করা হয়েছিল এবং পাকিস্তানের করাচি শহরের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। কিন্তু তালেবানদের সাবেক নেতা খিতাব তদন্ত করে জেনেছেন যে মোল্লা ওমরকে হত্যা করেছেন মানসুর।

২০১১ সালে খিতাব তালেবানদের ছেড়ে চলে যান। তার চলে যাবার কারণ এই ছিল যে, ওমরের অসুস্থতা হেতু মানসুরের ক্ষমতা গ্রহন তার কাছে ভালো লাগেনি।

খিতাব আরও দাবি করেন, মানসুরের সঙ্গে সিআইএ’র গোপন চুক্তি হয়েছিল যাতে আফগানিস্তান থেকে এক হাজার বিশেষ বাহিনী নিরাপদে বের হয়ে যেতে পারে এবং ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে ইরানের শিয়া নেতৃত্বাধীন বাহিনীর হামলার বৈধতা প্রশ্নে।

শুধু তাই নয়, খিতাবের মতে মোল্লা ওমর আসলে পলাতক থাকার বদলে তিনি ছিলেন মূলত মানসুরের বন্দী। বর্তমানে খিতাব একটি সতন্ত্র ইসলামিক গ্রুপের নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। এই সংগঠনটি বর্তমানে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াই করছে বলে জানা যায়।

এসএইচ