ইরানে সামরিক কুচকাওয়াজে বন্দুকধারীর হামলায় এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে প্রায় ২৯ জন। ইরাক সীমান্তের কাছাকাছি এই কুচকাওয়াজে হামলায় আহত হয়েছে আরও প্রায় ৬০ জন। যেখান থেকে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে এই নারকীয় হামলার দায় স্বীকার করেছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস। আমাক নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে তারা এই দায় স্বীকার করে। যদিও হামলার পিছনে তারা সঠিক তথ্য প্রমাণ দেখাতে পারে নি। এই সময় সরকারীভাবে ইরান দাবি করে, এটি যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত বিদেশি জঙ্গি গোষ্ঠির কাজ।

এ বিষয়ে একজন প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক জানায়, প্রায় ১০-১৫ মিনিটের মতো এই হামলায় হামলাকারী ইরানে রেভলিউশনারী গার্ডের পোশাক পরা ছিল এবং তার হাতে ছিল প্রায় একে-৪৭ এর মতো রাশিয়ার তৈরি একটি অস্ত্র।
এ্ বিষয়ে ইরানের মুখপাত্র বেহরাদ ঘাশেমী এএফপিকে জানান, আমরা মোটামুটি ধারণা করতে পারছি এটি কোন জঙ্গি গোষ্ঠির কাজ হবে। হামলায় সেনারা চারদিকে ছোটাছুটি করতে থাকে। আর হামলাকারীর নির্দিষ্ট কোন ব্যাক্তি বা গোষ্ঠি লক্ষ্য ছিল না। তার উদ্দেশ্য ছিল শুধু হত্যা করা।
ইরানের খুজেস্তান প্রদেশে আহভাজ শহরে এই হামলা হয়। ইরাকের সীমান্তবর্তী এই এলাকায় আরবের সবচেয়ে বেশি নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠির বসবাস।
এর আগেও অতীতে এই অঞ্চলে এই ধরনের হামলা হয়েছিল। যে হামলাগুলো ইরান থেকে আঞ্চলিক বিদ্রোহ বলে উল্লেখ করা হতো।
এদিকে এই ঘটনার পর ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ড ও ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইরান। বিশেষ এই আঞ্চলিক বিদ্রোহী গোষ্ঠিদের সাথে যোগসাজশের জন্য তাদের ডাকা হয় বলে জানায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কোরেশী।
তিনি বলেন, ইউরোপে সন্ত্রাসী হামলা চালায়নি বলে এই সংগঠনগুলোকে এখনও ইউরোপিয় ইউনিয়ন সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেনি। এটি গ্রহণযোগ্য নয়।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলায় নিহতদের প্রায় অর্ধেক হলো ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীর সদস্য।
এর আগে ইরান দেশটির সংখ্যালঘু আরবদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকান্ডে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ এনেছিল আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে।
জেড





