শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর এবার পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে একটি সন্দেহভাজন ‘জঙ্গি আস্তানায়’পুলিশ ও সেনা সদস্যের যৌথ অভিযানে ৬ শিশুসহ অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ওই অভিযান শুরু হলে সেনাবাহিনী ও সন্দেহভাজন ‘জঙ্গি’ দের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।  আজ (২৭ এপ্রিল) শনিবার দেশটির এক সামরিক মুখপাত্র এই তথ্য জানিয়েছেন বলে খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স, গার্ডিয়ান।

রয়টার্স বলছে, বাত্তিকালোয়া শহরের দক্ষিণের আমপারা এলাকার সেইন্টথামারুথুতে ওই বন্দুকযুদ্ধের যুদ্ধের ঘটনা ঘটে। খবরে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে দেশটির পুলিশ ও সেনাবাহিনী চার বন্দুকধারী ও এক বেসামরিক লোক নিহতের খবর নিশ্চিত করে। তবে শনিবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে ১৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ বাত্তিকালোয়ার আমপারা শহরের সেইন্টামারুথু নামক স্থানে শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র ইসলামী চরমপন্থীদের মধ্যে এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।  

সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র সুমিত আতাপাত্তু জানিয়েছেন, একটি বাড়িতে অভিযান শুরু করলে বন্দুকধারীরা সেনাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া শুরু করে। তিনি বলেন, “পাল্টা প্রতিরোধের অংশ হিসেবে চালানো গুলিতে দুজন বন্দুকধারী নিহত হয়।”বন্দুক হামলায় পড়ে ১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

পরে পুলিশ জানায় নিহতদের মধ্যে অভিযুক্ত ৪ জন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী নিহত হয়েছেন। ইস্টার সানডের সেই বোমা হামলার পর হামলাকারীদের খুঁজতেই সেনাবাহিনী ও দেশটির পুলিশ এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।

উল্লেখ্য, গত ২১ এপ্রিল(রোববার) ইস্টার সানডেতে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো ও এর আশপাশে কয়েকটি গির্জা ও বিলাসবহুল হোটেলে সিরিজ বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আড়াই শতাধিক লোক নিহত হয়েছে বলে দেশটির সরকার নিশ্চিত করেছে।

হামলা ঠেকানোর ব্যর্থতার দায় নিয়ে ইতোমধ্যে দেশটির প্রতিরক্ষা সচিব ও পুলিশ প্রধান পদত্যাগ করেছেন।

হামলার তিন দিন পর ঘটনার দায় স্বীকার করে ‘আইএস’। সন্ত্রাসী সংগঠনটির অন্তত ৯জন অনুসারী ওই হামলায় অংশ নিয়েছে বলে জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা। এই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ৭০ জনের বেশি লোককে আটক করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।  

এমবি