মালয়েশিয়ার ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল পিপলস জাস্টিস পার্টির (পিকেআর)-এর প্রধান কারাবন্দি আনোয়ার ইব্রাহিম মুক্তি পেয়েছেন।
তার রাজনৈতিক জোট নিয়ে মাহাথির মোহাম্মদ ক্ষমতায় আসার এক সপ্তাহের মাথায় আজ বুধবার (১৬ মে) চেরাজি ইউকেএম হাসপাতাল থেকে মুক্তি পেলেন তিনি।
অসুস্থতার কারণে কারাবন্দি সাবেক এই উপপ্রধানমন্ত্রীকে ওই হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।
আজ মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আনোয়ার ইব্রাহিম যখন মুক্তি পান তখন তার স্ত্রী উপ-প্রধানমন্ত্রী ওয়ান আজিজাহ, মেয়েসহ ক্ষমতাসীন পিকেআর ও জোট পাকাতান হারাপানের শতশত নেতাকর্মী হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষমান ছিলেন।
আনোয়ার ইব্রাহিম মুক্তি পাওয়ার পরপরই সরাসরি দেশটির রাজার সাথে দেখা করতে রাজপ্রাসাদে যান। সেখানে প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদও উপস্থিত ছিলেন। মূলত রাজার সাধারণ ক্ষমাতেই সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম মুক্তি পান। বিকেল তার প্রেস কনফারেন্সের কথা রয়েছে।
সমকামিতার অভিযোগে ৭০ বছর বয়সী আনোয়ার ২০১৫ সাল থেকে দ্বিতীয় মেয়াদে কারাবন্দি রয়েছেন। তিনি ও তার সমর্থকরা এ অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করেন। মুক্তি পাওয়ার পর ইব্রাহিম ফের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
১৯৯৮ সালে উপপ্রধানমন্ত্রী থাকাবস্থায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদের সঙ্গে বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আনোয়ার ইব্রাহিমকে জেলে যেতে হয়। দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর জামিনে মুক্তি পেলেও ২০১৫ সালে ফের জেলে যান আনোয়ার।
২০০৩ সালে প্রধানমন্ত্রী থেকে অবসরে যান মাহাথির।তার জায়গায় মালয়েশিয়ায় ৬০ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা বারিসান ন্যাশনালের হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী ড. নাজিব রাজাকের সঙ্গে দুর্নীতিসহ নানা ইস্যুতে মাহাথিরের বিরোধ সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত এক সময়ের চিরশত্রু আনোয়ার ইব্রাহিমের দল ও জোটের সাথে হাত মিলিয়ে গত ৯ মে অনুষ্ঠিত দেশটির চতুর্দশ সাধারণ নির্বাচনে মাহাথির মোহাম্মদের 'পাকাতান হারাপান' ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ বিরতির পর রাজনীতিতে ফিরে আসা মাহাথির ১৫ বছর পর ফের মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হন।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন জেলে থাকা আনোয়ার ইব্রাহিম ফের রাজনীতিতে সক্রিয় হবে। প্রধানমন্ত্রীসহ তিনটি মন্ত্রিসভা ঠিক হলেও বাকী মন্ত্রিসভার সদস্য এখনও গঠন করা হয়নি। আনোয়ার ইব্রাহিম মুক্তি পাওয়ার পর মন্ত্রিসভা গঠনে ভূমিকা রাখবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
ওয়াহিদ সোহান





