বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় শিক্ষার্থী, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ জনগণকে এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সিজেপি তাদের পোস্টে বিক্ষোভের আয়োজকদের উদ্দেশে জানায়, সমাবেশে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে অনুমতি ও অন্যান্য সাংগঠনিক বিষয় সমন্বয়ে ছাত্রসংগঠন ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে আন্দোলনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে জানান, তীব্র জ্বর ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে কয়েক ঘণ্টার জন্য দিল্লির যন্তর-মন্তরের আন্দোলনস্থল থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, গত কয়েক দিন ধরে জ্বর ও শরীরের তীব্র ব্যথা নিয়েই আন্দোলনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য সাময়িক বিশ্রাম প্রয়োজন হলেও সন্ধ্যার মধ্যে আবার আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার চারবার আলোচনার প্রস্তাব দিলেও সিজেপির পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য সরকারের দরজা সবসময় খোলা রয়েছে। আন্দোলনকারীরা চাইলে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে. পি. নাড্ডার বাসভবন বা কার্যালয়ে বৈঠকে অংশ নিতে পারেন।

বৃহস্পতিবার সকালে প্রথমবারের মতো প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

তিনি বলেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মোদি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত বিচার আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

তবে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে অপসারণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে সিজেপি। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে মোদির বক্তব্যের পর শিক্ষামন্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার কড়া সমালোচনা করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বর্তমান সরকারের সময়েই।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের আমলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল হতে দেওয়া হয়েছে এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের রক্ষা করা হয়েছে।

রাহুল গান্ধী শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে সরকারের ক্ষমা প্রার্থনা এবং ২০ জুলাইয়ের পুলিশি অভিযানে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

এস