জামায়াতে ইসলামী হিন্দের পক্ষ থেকে মুসলিম ব্যক্তিগত আইন নিয়ে সঠিক তথ্য জানানোর উদ্দেশ্যে বড় ধরণের প্রচারাভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগামীকাল ২৩ এপ্রিল থেকে ৭ মে পর্যন্ত জামায়াত এ ব্যাপারে সচেতনতা অভিযান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

পার্সোনাল ল’ নিয়ে যেকোনো ধরণের তথ্য পাওয়ার জন্য জামায়াতের পক্ষ থেকে একটি মুসলিম পার্সোনাল ল’ সচেতনতা অ্যাপও চালু করা হয়েছে। ওই অভিযানের মাধ্যমে কমপক্ষে ৫ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রচারাভিযানের আহ্বায়ক মাওলানা মুহাম্মদ জাফর বলেন, ‘২৩ এপ্রিল থেকে প্রচারাভিযানের সূচনা হওয়ার পরে তা জেলা সদর এবং পরবর্তীতে ছোট ছোট স্থানে পৌঁছাবে। নারীদের নিয়েও বেশকিছু টিম তৈরি করা হয়েছে তারাও বিভিন্ন জায়গায় যাবেন। প্রচারাভিযানের সময় ছোটবড় সব মিলিয়ে ১০ হাজার সভা করা হবে, ৭০০ সংবাদ সম্মেলন, ৭০০ বড় সমাবেশ, নারীদের নিয়ে ৫০০ পদযাত্রা মিছিল করা হবে। এ ব্যাপারে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করা হবে।’

মাওলানা জাফর বলেন, ‘দরিদ্র এবং অশিক্ষিত মুসলিমদের মধ্যে বিশেষভাবে কাজ করা হবে কারণ শরীয়ার অপব্যবহার ওই অংশের মধ্য থেকে হয়। এজন্য ৫০০ ঝুপড়ি এবং বসতিসহ ২০ হাজার গ্রামে জামায়াতের বার্তা পৌঁছে দেয়া হবে। ওই অভিযানে প্রচুরসংখ্যক আইনজীবীকে শামিল করা হবে যারা পার্সোনাল ল’ নিয়ে সঠিক কথা বলতে পারেন। এছাড়া ছাত্র, মসজিদের ইমামদের, মাদ্রাসাসমূহকে যুক্ত করা হবে। কয়েক হাজার মাদ্রাসাসহ প্রায় ১০ হাজার বড় মসজিদে শরীয়া আইন সম্পর্কে বক্তব্য দেয়া হবে।’

শুক্রবার দিল্লির প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়াতে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামী হিন্দের সর্বভারতীয় আমীর ও মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাওলানা সাইয়্যেদ জালালউদ্দিন উমরী বলেন, ‘সাধারণ মুসলিমরা অনেকেই পার্সোনাল ল’ নিয়ে বিশেষ কিছু জানেন না। আমরা চাই তাদের মধ্যে সঠিক কথা পৌঁছাক। আমরা এ নিয়ে যথাসম্ভব প্রচেষ্টা চালাব। এ ব্যাপারে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

মাওলানা উমরী বলেন, ‘মুসলিমদের মধ্যে বেকারত্ব, অনগ্রসরতা ইত্যাদিসহ নানাবিধ সমস্যা রয়েছে। কিন্তু এমন পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে যেন তিন তালাক এবং পার্সোনাল ল’-ই সবচেয়ে বড় সমস্যা। এরকম বলা হচ্ছে যেন এসবের কারণেই মুসলিমরা পিছিয়ে রয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘মুসলিম পার্সোনাল ল’য়ের সমর্থনে ৫ কোটি মানুষ সই করেছেন। এদের মধ্যে নারীদের সংখ্যাই বেশি। কেন্দ্রীয় আইন কমিশনে তা পাঠানো হয়েছে। স্বাধীনতার পরে মুসলিম সমাজের মধ্যে পার্সোনাল ল’য়ের সমর্থনে এতবড় আন্দোলন আর হয়নি।’

মাওলানা জালালউদ্দিন উমরী বলেন, ‘পার্সোনাল ল’ নিয়ে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে সেসব দূর করা প্রয়োজন। ভারতের মত বড় দেশে ১৫ দিনের প্রচারাভিযান যথেষ্ট নয়। কিন্তু এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং ধারাবাহিকভাবে তা ছড়িয়ে পড়বে বলে মাওলানা উমরী আশাপ্রকাশ করেন।

দিল্লি প্রেস ক্লাবের সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা জালালউদ্দিন উমরী, মুহাম্মদ জাফরের পাশাপাশি জামায়াতের ভাইস-প্রেসিডেন্ট নুসরত আলী, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ সেলিম ইঞ্জিনিয়ার, কমিউনিটি ও রাজনৈতিক বিষয়ক সচিব মুহাম্মদ আহমেদ এবং জামায়াতের মহিলা শাখার প্রধান আতিয়া সিদ্দিকা উপস্থিত ছিলেন। পার্সটুডে
জেড