মালদ্বীপের রাজনৈতিক সংকট ক্রমশ বেড়েই চলেছে। মঙ্গলবার দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনের নির্দেশে চলমান জরুরি অবস্থা আরও ১ মাস বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে, এমন অস্থিরতার মধ্যে পূর্ব ভারত মহাসাগরে চীন ১১টি যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে ভারতীয় নৌবাহিনীর দাবি, মালদ্বীপের সমুদ্রসীমায় কোনো চীনা জাহাজের অস্তিত্ব নেই। ভারত ও চীনের এই প্রচ্ছন্ন লড়াই মালদ্বীপ সংকটকে আরও খারাপ অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   

 আদালত-সরকার দ্বন্দ্বের জেরে ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে মালদ্বীপের রাজনৈতিক অবস্থা। দেশটিতে গেলো ৫ ফেব্রুয়ারি জারি করা জরুরি অবস্থা বাড়ানো হয় আরও ৩০ দিন। মঙ্গলবার দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনের অনুরোধে পার্লামেন্টে এক ভোটাভুটিতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ক্ষমতাসীন দলের ৩৭ জন এমপি জরুরি অবস্থা বাড়ানোর পক্ষে ভোট দিয়ে সেটি মূল্যায়নের জন্য নিরাপত্তা কমিটির কাছে পাঠায়। যদিও দেশটির সংবিধান অনুযায়ী কোন ডিক্রি অনুমোদন পেতে পার্লামেন্টে অন্তত ৪৩ জন এমপির উপস্থিতির প্রয়োজন হয়। বিরোধী দলীয় এমপিরা এ ভোটকে অসাংবিধানিক অ্যাখ্যা দিয়ে বয়কট করেন। নতুন মেয়াদে জরুরি অবস্থা শেষ হবে ২২ মার্চ।

এদিকে ভারত মহাসাগরের পূর্বদিকে এগারটি চীনা যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতির খবর পাওয়া গেছে। চীনের গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানানো হয়, এই মুহূর্তে চীনা জাহাজগুলো মালদ্বীপ থেকে দুই হাজার নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান নিয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ডেস্ট্রয়ার, ৩০ হাজার টন ধারণ ক্ষমতার একটি সুবিশাল উভচর যুদ্ধজাহাজ ও তিনটি সাপোর্ট ট্যাংক আছে। তবে ভারতীয় নৌবাহিনীর দাবি, মালদ্বীপের জলসীমার কাছাকাছি কোন চীনা যুদ্ধজাহাজ দেখা যায়নি।

চলতি মাসের শুরুতে মালদ্বীপে সর্বোচ্চ আদালতের এক রায়ের পর জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ১৫ দিনের জরুরি অবস্থা জারি করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। এরপরই দেশটিতে ব্যাপক ধরপাকড়ের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দেখা যায়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এরিমধ্যেই জরুরি অবস্থা তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার জেইদ রাদ আল হুসেইনও মালদ্বীপের জরুরি অবস্থাকে 'গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আক্রমণ' বলে বর্ণনা করেছেন।

এসএম

আরও পড়ুন.....

বোলারের মাথায় বল লেগে ছক্কা (ভিডিও)