যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলো থেকে ইউরোপে পাড়ি জমানো শরণার্থীদেরকে সাহায্য দেয়ার দাবি জানিয়ে মিছিল করেছেন ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরের লাখ লাখ মানুষ।
জাতিসংঘের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই বছরের শেষ পর্যন্ত আনুমানিক ১০ লাখ সিরিয়ান বাস্তুচ্যূত হতে পারেন। এমন ঘোষণার পর সুইডেনের রাজধানী স্টোকহোম থেকে হাঙ্গেরীর বুদাপেস্ট, গ্রিসের এথেন্স থেকে স্পেনের মাদ্রিদ পর্যন্ত সব জায়গায় বিক্ষোভ শুরু হয়।
সিরিয়ায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সমন্বয়ক ইয়াকুব আল-হিল্লো বলেছিলেন, যুদ্ধের একটি সমাধান অবশ্যই খুঁজে বের করতে হবে। তা না হলে দল বেধে ইউরোপে যাওয়া অব্যাহত থাকবে। এরপর ইউরোপের লাখ লাখ মানুষ শরণার্থীদের সমর্থনে ও বিরোধিতায় বিক্ষোভ মিছিল করছেন।
হাজার হাজার মানুষ লন্ডনে প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে মিছিল করেছেন। শরণার্থীদের সমর্থনে তাদের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল "কোনো মানুষই অবৈধ নয়।"
যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির নেতা ও প্রবীণ সমাজকর্মী জেরেসি কোরবাইন যখন শরণার্থীদের পক্ষে বক্তৃতা করলেন তখন অনেকে উৎসাহিত হন।
তিনি বলেছেন, "তোমরা তাদের জন্য হৃদয় ও মন উন্মুক্ত কর, যারা আশাহত, যাদের নিরাপদে বেঁচে থাকার জন্য জায়গা দরকার এবং আমাদের সমাজে অবদান রাখতে চায়।" এসব অসহায় শরণার্থীরা আমাদের মতোই মানুষ বলেও মন্তব্য করেন সমাজকর্মী জেরেসি।
আল জাজিরার প্রতিনিধি বারনাবি ফিলিপিস বিক্ষোভ মিছিলের মধ্য থেকে জানিয়েছেন, হাজার হাজার বিক্ষোভকারীরা দাবি করছেন যে যুক্তরাজ্যের উচিত শরণার্থীদেরকে আরো বেশি সহায়তা করা।
তিনি আরো বলেন, "এটা সংহতি প্রকাশের বার্তা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কত দিন এই জনতা যুক্তরাজ্যকে সমর্থন দিবে।"
"শরণার্থীরা স্বাগতম"
ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে ৩০ হাজার মানুষ আশ্রয়প্রার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে মিছিল করেছেন। একইভাবে মাদ্রিদ ও হামবুর্গে মিছিল হয়েছে।
মাইকেল বন্ডস এর লিখিত বই "ডিপেস্ট, ডার্কেস্ট পেরু" বইয়ের বিখ্যাত চরিত্র "প্যাডিংটন ভাল্লুক" এর মতো পোশাক পরে এক বালক লন্ডনের প্যাডিংটন স্টেশনে উপস্থিত হয়েছেন। "প্যাডিংটন ভাল্লুক শরণার্থী ছিল" লেখা ব্যানার ধরে রেখেছেন তিনি।
জার্মানির বার্লিনে বিক্ষোভকারীরা সিরিয়ার পতাকায় "শরণার্থীরা স্বাগতম" লিখেছেন। এছাড়া স্টোকহোম, ফিনল্যান্ডের হেলসিংকি ও পর্তুগালের লিসবনে প্রায় এক হাজার লোক জড়ো হয়েছেন।
কিন্তু একই সময় পূর্ব ইউরোপের অনেকে শরণার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তবে তাদের সংখ্যা খুবই কম।
পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারসে "ইসলাম ইউরোপের মৃত্যু ঘটাবে" বলে স্লোগান দিয়েছেন শরণার্থী-বিরোধী বিক্ষোভকারীরা। তবে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের এই মিছিলে অধিকাংশই ছিলেন রোমান ক্যাথলিক।
চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগ ও স্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় "তোমাদেরকে স্বাগত জানানো হচ্ছে না। তাই বাড়ি চলে যাও।" লেখা ব্যানার হাতে দাঁড়িয়েছিলেন বিক্ষোভকারীরা।
অভিবাসী বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা শুক্রবার জানিয়েছে যে এ বছর ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ৪ লাখ ৩০ হাজার মানুষ ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছেন। এতে ২ হাজার ৭৪৮ জন মারা গেছেন বা নিখোঁজ রয়েছেন।
জেডআই





