বাংলাদেশে সাম্প্রতিক চলা হত্যাকাণ্ডের জন্য সরকার পক্ষ থেকে বিরোধী দলকে দায়ী করা হলেও সাক্ষ্য প্রমাণ বলছে এসব ঘটনার পেছনে আল কায়দা ও আইএস-সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো দায়ী। এধরণের উগ্রপন্থা শিকড়ে পৌছানোর আগেই বাংলাদেশ ভারতকে একযোগে কাজ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির এক শুনানীতে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ মন্তব্য করেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট এন্থনী ব্লিনকেন।

America as a Pacific Power: Challenges and Opportunities in Asia শীর্ষক ওই শুনানিতে এশিয়ার একটি দীর্ঘ বক্তব্য উপস্থাপন করেন এন্থনি ব্লিনকেন। এর পরপরই বাংলাদেশবিষয়ক জরুরি প্রশ্নটি উত্থাপন করেন হাউজ ফরেন এফেয়ার্স কমিটির অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য কংগ্রেসম্যান স্টিভ শ্যাবোট ।

এই শুনানিতে কংগ্রেসম্যান শ্যাবোট বলেন, 'বাংলাদেশ সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচন যেটা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে এবং এই নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার পুনঃনির্বাচিত হয় ও খালেদা জিয়ার দল ঐ নির্বাচন বর্জন করে। এনিয়ে দুই দলের মধ্যে তিক্ত সম্পর্ক বিরাজ করছে যা দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল রয়েছে ।'

তিনি বলেন, আমরা জানি বাংলাদেশ বরাবরই একটি উদারপন্থী মুসলিম দেশ হিসাবে পরিচিত কিন্তু সাম্প্রতিককালে একজন সমকামী অধিকার কর্মী এবং একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজীর শিক্ষককে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, যার সাথে ইসলামী চরমপন্থী জঙ্গী সংগঠনগুলোর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এই বিষয়ে আপনার (ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট ব্লিনকেন) বক্তব্য আশা করছি।

এই প্রশ্নের জবাবে ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট এন্টনি ব্লিনকেন বলেন, 'ধন্যবাদ এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির অবতারনা করার জন্য। এটা আমাদের জন্য একটি জরুরি বিষয়। গত কয়েক মাসে বাংলাদেশে বেশ কিছু সন্ত্রাসী হামলার ঘটতে দেখেছি, আর এসব ঘটনার জন্য আইএস কিংবা আল কায়েদা দায়িত্ব স্বীকার করেছে।

কিন্তু বাংলাদেশ সরকারকে প্রায়ই দেখি এসব ঘটনার জন্য বিরোধী দলকে দায়ী করতে। কিন্তু আমরা বিভিন্ন তথ্য প্রমানের মাধ্যমে দেখতে পাচ্ছি এসব ঘটনার পিছনে স্থানীয়ভাবে কোনো উগ্রপন্থী সংস্থা হতে পারে এরা আইএস কিংবা আইএসের সাথে সংশ্লিষ্ট তারাই এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে।

আর এটিই সবেচয়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাড়াচ্ছে যে আইসিস কিংবা দায়েসের মতো সংগঠনগুলো বাংলাদেশের মতো একটি উদার মুসলিম দেশে ঘাটি গেড়ে বসতে যাচ্ছে। যে দেশটি উগ্রপন্থা নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ।

আমরা এ সংকট নিরসনে দেশটির সরকারের সাথে কাজ করছি। আমরা সর্বশেষ মনে করি বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে যে পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে এ বিষয়ে দেশ দুটি তাদের যৌথ উদ্যোগ ত্বরান্বিত করে চরমপন্থী গোষ্ঠীর বিস্তার রোধ কল্পে কাজ করবে ।

হাউজ ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান এড রয়েসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শুনানির প্রারম্ভিক বক্তব্যে তিনি বলেন, "বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল এশিয়ার গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত জরুরী বিষয়।'

এমবি