ভারতের ছত্রিশগড়ের রাজধানী রায়পুরের কেন্দ্রীয় কারাগারের উপ-জেলরক্ষক ভার্শা ডোংগ্রিকে বরখাস্ত করা হয়েছে। উপজাতীয় নারী ও অপ্রাপ্ত বয়স্কা মেয়েদের ওপর ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর বর্বরোচিত নির্যাতনের ঘটনা ফেসবুকে ফাঁস করে দেয়ার অপরাধে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় ভার্শাকে।

মাওবাদী গেরিলা অধ্যুষিত এলাকার থানাগুলোতে কীভাবে উপজাতীয় মেয়েদের নির্যাতন করা হয় তার লোমহর্ষক বিবরণ গত সপ্তাহে দেয়া ফেসবুকের পোস্টে তুলে ধরেছেন ভার্শা। তিনি লিখেছেন, আমি নিজের চোখে নির্যাতনের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছি। কাপড়-চোপড় খুলে উপজাতীয় মেয়েদের বুকে এবং হাতের কবজিতে বৈদ্যুতিক শক দেয়া হয়।

বর্বরোচিত নির্যাতনের চিহ্ন দেখে তিনি শিউরে উঠেছেন উল্লেখ করে ভার্শা আরো লিখেছেন, ছোট ছোট এসব মেয়েকে কেন এভাবে নির্যাতন করা হবে? এ রকম নির্যাতন চালানোকে ভারতীয় সংবিধান এবং আইনে অনেকটা অনুমোদন দেয়া বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এ পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর তা মুছে দেন তিনি। অবশ্য দৃঢ়চেতা কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ভার্শাকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে চার্জশিটও দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া, ছত্তিসগড়ের কারা কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

ছত্রিশগড়ের সুকুমায় মাওবাদীদের হামলায় ভারতীয় কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী সিআরপিএফ’এর অন্তত ২৫ সদস্য নিহত হওয়ার পর এ পোস্ট দেন ভার্শা।

এদিকে, উপজাতীয় নারীদের ইজ্জত হরণ করায় ভারতীয় আধা সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা করেছে বলে সুকুমার ঘটনার পর দেয়া মাওবাদীদের বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছিল। অবশ্য ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী এ বক্তব্য সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।
জেড