নাগরিকদের ‘স্থূলতা’ কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় মিষ্টিজাত কোমলপানীয়ের উপর ‘কর’ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
বিবিসি বলছে, বৃহস্পতিবার পেনসালভানিয়া অঙ্গরাজ্যের বৃহত্তম এ শহরের কাউন্সিলে এ নিয়ে ভোটাভুটিতে কর আরোপের সমর্থকেরা ১৩-৪ ভোটে বিজয়ী হন।
এরফলে আগামী জানুয়ারি থেকে সব ধরনের কোমল পানীয়ের ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারকদের আউন্সপ্রতি দেড় সেন্ট ‘সোডা ট্যাক্স’ গুণতে হবে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
নতুন এই কর শহর কর্তৃপক্ষের আয় বাড়াবে বছরে প্রায় ৯০ মিলিয়ন ডলার, যা প্রাক-প্রাথমিক ও কমিউনিটি শিক্ষা কার্যক্রম এবং বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ব্যয় করা হবে বলে মেয়র জিম কেনে জানিয়েছেন।
“ফিলাডেলফিয়া তার সীমানায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে ঐতিহাসিক এক বিনিয়োগের যাত্রা শুরু করলো”, বলেন তিনি।
আরোপিত এই কর ভোক্তাদের উপর বর্তাবে কি না, তা পরিবেশকদের উপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলেও জানান এই ডেমক্রেট মেয়র।
বেভারেজ শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের ‘মাল্টিমিলিয়ন ডলার’ প্রচারের ফলে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টিরও বেশি শহরে এ ধরণের কর আরোপের প্রস্তাব ‘ব্যর্থ হয়’; কেবলমাত্র ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলে শহরে ফিলাডেলফিয়ার ‘কাছাকাছি কর’ আরোপ করা সম্ভব হয় বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তবে নতুন এই কর নাগরিকদের স্থূলতা কমিয়ে শহরের দেড় মিলিয়ন নাগরিকের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাবে বলে ভাষ্য সমর্থকদের।
কিন্তু বিরোধীদের দাবি, ‘সোডা ট্যাক্স’ কোমল পানীয় প্রক্রিয়াজাত শিল্পের সঙ্গে জড়িত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দরিদ্র মানুষদের বিপদে ফেলবে।
কর আরোপ যেন না হয় সেজন্য লাখ লাখ ডলারের প্রচার কার্যক্রম চালিয়েছে বেভারেজ কোম্পানিগুলো। তারা বলছে, নতুন কর ভোক্তাদের খরচও বাড়িয়ে দেবে।
কর-বিরোধী শিল্পপতি হ্যারল্ড হনিকম্যান সিটি কাউন্সিলের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। হ্যারল্ডের কোম্পানি কর আরোপ ঠেকাতে ১৭ লাখ ডলারের প্রচার চালিয়েছিল।
এক গবেষণার বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, ফিলাডেলফিয়ার ৬৮ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক ও ৪১ শতাংশ শিশু ‘স্থূলতা’জনিত রোগে আক্রান্ত।
স্থূলতার জন্য মিষ্টিজাত কোমল পানীয়কে অনেক দিন ধরেই দায়ী করে আসছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৪ সালে বিশ্বের প্রায় দুইশ’ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি স্থূলতায় আক্রান্ত; শিশুদের মধ্যেও এ প্রবণতা ভয়াবহ।
গ্লোবাল নিউট্রিশন রিপোর্ট-২০১৬ তে বাড়তে থাকা স্থুলতাকে ‘বিশ্বের জন্য বিস্ময়কর চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এফএফ





