দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশের বাইরে এই প্রথম সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করতে যাচ্ছে জাপান। আর জাপানের সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র বিক্রির এই বন্ধ্যাত্ব ঘুচাচ্ছে ভারত। জাপান থেকে 'ইউএস-২' নামের উভচর (স্থলে-জলে-আকাশে) বিমানের এক বহর কিনতে যাচ্ছে ভারত। তিনদিনের জাপান সফরে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাপানের সঙ্গে এই চুক্তি সম্পন্ন করেছেন। খবর এনডিটিভি'র।

তবে, মোদীর জাপান সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য ছিল বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি সহযোগিতার বিষয়ে একটি চুক্তি করা। তবে, এ ব্যাপারে দু'দেশ চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

এ ছাড়া, ভারতে ৩৪ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের ব্যাপারে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন মোদী। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ভারতে এই অর্থ বিনিয়োগ করবে জাপান।

জাপানের কাছ থেকে এই উভচর বিমান বহর কেনাকে চীনের সামরিক চ্যালেঞ্জের বিপক্ষে একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, চীন হচ্ছে এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতি। অন্যদিকে, জাপান ও ভারত হচ্ছে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। মোদীর এই সফরে জাপান ও ভারতের মধ্যে অন্যরকম সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে; যা চীনের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

ভারতের এই বিমান বহর কেনার মাধ্যমে জাপানের সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির প্রায় সাত দশকের বন্ধ্যাত্ব ঘুচতে যাচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর বিদেশে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

বিশ্বযুদ্ধের পর ভারতই প্রথমবারের মতো দেশটি থেকে ১৫টি উভচর 'ইউএস-২' বিমান কিনতে পারে। তবে, জাপান শুধুমাত্র বিমানের সরঞ্জাম সরবরাহ করবে। বিমানগুলো নির্মিত হবে ভারতের সামরিক কারখানায়। একইসঙ্গে বিমানের প্রযুক্তিও ভারতকে সরবরাহ করা হবে বলে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

এসব উভচর বিমানের মাধ্যমে ভারতীয় নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। সাগরে বিশেষ সামরিক অভিযান, শত্রুপক্ষ সম্পর্কে তথ্য অনুসন্ধান, জলপথে কোন দুর্ঘটনা বা প্রতিবন্ধকতা সরানো এবং বিক্ষিপ্ত দ্বীপগুলোতে জরুরী সহায়তা ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই উভচর বিমানগুলো কাজে লাগবে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ভারতের মূল ভূখন্ড থেকে দূরবর্তী দ্বীপপুঞ্জ আন্দাবার ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, লাক্ষা দ্বীপপুঞ্জে সহায়তা ও জরুরী সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হবে।

ইউএস-২ উভচর বিমানগুলো ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৩৮ কিলোমিটার বেগের সমুদ্র স্রোতের বিপরীতে চলতে পারে, এমনকি সাগরের উঁচু ঢেউয়ের মধ্যেও এগুলো চলতে পারে। এ ছাড়া নদী ও হ্রদেও এগুলো চলতে পারে। প্রত্যেকটি বিমান ৩০ জন করে সৈন্য ও ১৮ টনের সরঞ্জাম বহন করতে পারে। বিমানগুলো কোন বিরতি ছাড়াই টানা ৪,৫০০ কিলোমিটার চলতে পারে। সূত্র: এনডিটিভি

ঢাকা, ০২ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমএ