কম্বোডিয়ায় থাই রাজকুমারী মহা চক্রী সিরিনধরনের জন্য নির্মিত বিলাসবহুল টয়লেট অব্যবহৃতই থেকে গেল। কম্বোডিয়া সরকার সোমবার থাই রাজকুমারীর দুই ঘন্টার সফর উপলক্ষে এ টয়লেট নির্মাণ করে। এতে খরচ হয় ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, বাংলাদেশী টাকায় যার পরিমান দাঁড়ায় প্রায় ৩২ লাখ টাকা।

কম্বোডিয়ার মত একটি গরিব দেশে যেখানে গ্রামের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের নিজেদের ব্যবহারের টয়লেট নেই সেখানে থাই রাজকুমারীর জন্য এ ধরণের বিলাবহুল টয়লেট নির্মাণ করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কম্বোডিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাতানাক্কিরি প্রদেশের লেক ইয়াক লোম হ্রদের তীরে ওই বিলাসবহুল টয়লেট নির্মাণ করা হয়।
কম্যুনিটি নেতা ভেন চার্ক মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এএফপি’কে বলেন, কম্বোডিয়ায় রাজকুমারীর দুই ঘন্টার সফর শেষ হয়েছে। তবে তিনি তার জন্য নির্মিত টয়লেটটি ব্যবহার করেননি।

তিনি বলেন, টয়লেটটি সরিয়ে নেয়া হয়েছে এবং এটি এখন থেকে পর্যটকদের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনীর ফাঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

ভেন চার্ক বলেন, রাজকুমারী বাথরুমে যাননি। তিনি শুধু বাইরে থেকে এটি দেখেন এবং কয়েকটি ছবি তুলে রাখেন।
চার্ক আরো বলেন, আট বর্গমিটার চওড়া বাথরুমের কমোডটি বিদেশ থেকে কেনা। এটি সম্পূর্ণ শীতাতপনিয়ন্ত্রিত। এটি নির্মাণ করতে দুই সপ্তাহ লেগেছে। ব্যয় হয়েছে ৪০ হাজার মার্কিন ডলার।

তিনি বলেন, ‘আমি এ ধরণের বাথরুম আর কখনো দেখেনি।’প্রাদেশিক গভর্নর নেম স্যামও নিশ্চিত করেন, বাথরুমটি অব্যবহৃতই রয়ে গেছে। তিনি বলেন, এটা খুবই আধুনিক ও সুন্দর। এটা শুধুমাত্র রাজকুমারীর জন্য নির্মিত। তাইএটা রাখা যাবে না।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, ক্রাউন প্রপার্টি ব্যুরোর মালিকানাধীন থাই নির্মাণ প্রতিষ্ঠান সিয়াম সিমেন্ট গ্রুপ এই বাথরুমটি নির্মাণ করে। থাই পক্ষ এর নির্মাণ ব্যয় বহন করেছে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এই টয়লেট বা প্রসাধনকক্ষটি নির্মাণে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা কম্বোডিয়ার গড় বার্ষিক বেতনের ৬৬ গুণ।

থাই রাজকুমারীর জন্য টয়লেট নির্মাণের পেছনে এত বিপুল অর্থ ব্যয় করাকে যারাভালোভাবে নেননি, তারাএ ঘটনাকে তাঁরা কম্বোডিয়ার জনগণের প্রতি অসম্মান হিসেবেওবর্ণনা করেছেন।

সাবেক সাংবাদিক অ্যান্ড্রু ম্যাকগ্রেগর মার্শাল একটি পত্রিকাকে বলেন, কম্বোডিয়ার অধিকাংশ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত আধুনিক পয়ঃব্যবস্থার সুযোগ-সুবিধা নেই। থাই রাজকুমারীর এক রাতের ব্যবহারের জন্য যে অর্থ ব্যয় করে একটি টয়লেট বানানো হলো, তা দিয়ে পুরো কম্বোডিয়ার গ্রামবাসীর পয়ঃনিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা করা যেত।

কেবি