আমেরিকার স্কুলগুলোতে গুলিবর্ষণের ঘটনা বেড়েই চলেছে। ২০১২ সালে কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের নিউটাউনের একটি এলিমেন্টারি স্কুলে গুলিবর্ষণের ঘটনায় ২৬ শিশু নিহত হওয়ার পর থেকে নিয়মিত বিরতিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটে যাচ্ছে।
নিউটাউনের স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলের ঘটনার পর গত দু’বছরে এ ধরনের আরো ৪৪টি ঘটনা ঘটেছে। অর্থাৎ প্রতি ১০ দিনে একটি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে এক যৌথ প্রতিবেদনে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সহিংসতা বিরোধী দু’টি সংগঠন মম্‌স ডিমান্ড অ্যাকশন্‌স এবং মেয়র্‌স অ্যাগেইনস্ট ইললিগাল গান্‌স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ৪৪টি গুলিবর্ষনের ঘটনায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছে।
গুলিবর্ষণকারীদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী এবং তাদের শতকরা ৭৫ ভাগ তাদের বাড়ি থেকে বন্দুক নিয়ে স্কুলে এসেছে। এসব বন্দুকের মধ্যে রয়েছে সেমি-অটোম্যাটিক হ্যান্ডগান এবং শটগান। বাড়িতে বাবা-মা ঠিকমতো সামলে না রাখার কারণে শিক্ষার্থীরা এসব আগ্নেয়াস্ত্র স্কুলে আনার সুযোগ পেয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা তুচ্ছ ঘটনায় মনোমালিন্য থেকে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছে। অনেক সময় অ্যালকোহল ব্যবহারকেও গুলিবর্ষণের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।  যুক্তরাষ্ট্রের সর্বত্র গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটলেও গত দুই বছরের ৪৪টি ঘটনার মধ্যে ২৩টিই ঘটেছে দক্ষিণাঞ্চলীয় নয়টি অঙ্গরাজ্যে। এসব অঙ্গরাজ্যে আগ্নেয়াস্ত্র সহজলভ্য এবং এ সংক্রান্ত আইনও শিথিল।
স্যান্ডি হুকের ঘটনার পর আমেরিকাজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের জের ধরে ওবামা প্রশাসন অস্ত্র ব্যবহারের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করতে চেয়েছিল। কিন্তু অস্ত্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষাকারী কংগ্রেস সদস্যদের বিরোধিতার কারণে সে উদ্যোগ সফল হয়নি। সূত্র: আইআরআইবি
[b]ঢাকা, ১৫ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম)//এমএ[/b]