মস্কোয় অনুষ্ঠিত বৈঠকের মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলো ঐক্যবদ্ধ হওয়ার একটা নতুন পথের সূচনা হলো
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী প্রধান দুই সংগঠন ফাতাহ এবং হামাস ঐক্য সরকার গঠনের ব্যাপারে একমত হয়েছে। এমন একসময় এই দুই সংগঠন ঐক্য সরকার গঠনের ব্যাপারে একমত হয়েছেন যখন স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে আন্তর্জাতিক সমর্থন যেমন জোরদার হয়েছে, একই সাথে ইসরাইলের প্রতি নতুন মার্কিন সরকারের শর্তহীন সমর্থনের প্রকাশ ঘটছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই ইসরাইল নতুন করে ইহুদি বসতি নির্মাণ শুরু করেছে। মার্কিন দূতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুসালেমে সরে নেয়ার ব্যাপারে ট্রাম্প প্রশাসন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অর্থাৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে ইসরাইলি আগ্রাসন যে আগামী দিনে আরো বাড়বে তা এখন অনেকটা স্পষ্ট।
এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার উদ্যোগে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠনগুলো এক বৈঠকে মিলিত হয়।
মস্কোয় অনুষ্ঠিত তিন দিনের এই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় ফাতাহ ও হামাস একটি ন্যাশনাল কাউন্সিল গঠন করবে। এই কাউন্সিল নতুন নির্বাচনের আয়োজন করবে। এই বৈঠকে হামাস ও ফাতাহর প্রতিনিধি ছাড়াও ইসলামিক জিহাদের একজন প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন। ২০০৭ সালে নির্বাচনের পর থেকে ফাতাহ নেতা মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বে ফিলিস্তিন সরকার পশ্চিম তীর শাসন করছে।
অপর দিকে, গাজার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ইসলামিক প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের হাতে। ২০১৬ সালে নতুন নির্বাচনের কথা থাকলেও নানা আইনি জটিলতা ও দুই সংগঠনের মধ্যে দূরত্বের কারণে এই নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।
মস্কোয় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলো ঐক্যবদ্ধ হওয়ার একটা নতুন পথের সূচনা হলো। ফিলিস্তিন ইস্যুতে এত দিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন ধরনের আলোচনার উদ্যোগ নিলেও রাশিয়া এবার দৃশ্যপটে এসেছে। এই বৈঠক শেষে ফিলিস্তিনি নেতারা রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে মার্কিন দূতাবাস যাতে তেল আবিব থেকে জেরুসালেমে সরিয়ে নেয়া না হয় সে জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য অনুরোধ করা হয়।
অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, মস্কোয় ফিলিস্তিনি নেতাদের এই বৈঠকের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। সিরিয়া যুদ্ধে রাশিয়া এখন প্রভাব বিস্তারকারী প্রধান শক্তি। ন্যাটো সদস্যদেশ তুরস্ক এখন সিরিয়া প্রশ্নে রাশিয়ার সাথে একযোগে কাজ করছে। অপর দিকে, তুরস্কের সাথে রয়েছে হামাসের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান ও পুরনো সমস্যা হচ্ছে ফিলিস্তিন সমস্যা। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের মধ্য দিয়ে কেবল এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।
এ ব্যাপারে রাশিয়া সবসময় ফিলিস্তিনিদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এর পরও রাশিয়া এত দিন কার্যকর কোনো ভূমিকা পালন করতে পারেনি। এখন মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কটের সমাধানে রাশিয়ার ভূমিকা পালনের যথেষ্ট সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আর এই সুযোগটি কাজে লাগাতে চাইছে মস্কো। অপর দিকে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ব্যাপারে ইউরোপীয় দেশগুলোর সমর্থন অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি পাচ্ছে। সম্প্রতি জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ইসরাইলের অবৈধ বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাস হয়েছে।
এই প্রথম ইসরাইলের পক্ষে ভেটো প্রদান থেকে বিরত থাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যদিও ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর ইসরাইল আবারো বসতি নির্মাণ শুরু করেছে। কিন্তু এর পরও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসরাইল বেশ চাপের মধ্যে রয়েছে। অপর দিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণের পর ফিলিস্তিনিদের মধ্যে পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রচেষ্টা তীব্রতা পেয়েছে।
হামাসের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে ফাতাহর সাথে বিভেদ কমিয়ে এনে পশ্চিম তীর ও গাজাকে ঐক্যবদ্ধ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের গুরুত্বকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। মস্কো বৈঠকে এর প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করা হয়। এখন এর সাফল্য নির্ভর করবে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কতটা উদ্যোগী হন তার ওপর।
মাহমুদ





