বিশ্বের ২২টি দেশের ৩২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সিস্টেম হ্যাক করে সেখান থেকে বিভিন্ন রিসার্চ ও তথ্য চুরির অভিযোগ এনে ৯ ইরানি নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞাসহ তাদেরকে মোস্ট ওয়ান্টেডের তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
গতকাল শুক্রবার ৯ ইরানির ওপর ব্যাক্তিগত নিষেধাজ্ঞা ছাড়াও তারা যে প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করত (the Mabna Institue), তার ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
তারা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কম্পিউটার সিস্টেম হ্যাকিং করে সেখান থেকে মূল্যবান তথ্য ও গবেষণাকর্ম অর্থ্যাৎ রিসার্চগুলো নিয়ে যাওয়ায় তাদের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আনা হয়েছে বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্রের ডিপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রোঢ রোসেনস্টেইন।
তিনি এক বিবৃতিতে আরও বলেন, "নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসা এই ৯ ইরানি নাগরিক বিশ্বের ২২টি দেশের প্রায় ৩২০টি বিশ্ববিদ্যালয় হ্যাক করে। যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৪৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকর্মগুলো হাতিয়ে নেয়া হয়। যেটা তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হয়"।
অভিযোগে আরও বলা হয় হাতিয়ে নেয়া তথ্যগুলো 'ইরানিয়া রিভুলেশনারি গার্ড কর্পস' ব্যবহার করে এবং বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে দেয়।
সবকিছু মিলিয়ে নিষাধাজ্ঞা দেওয়া ৯ ইরানি নাগরিকের বিরুদ্ধে মোট ৭টি অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র। যেগুলোর মধ্যে ষড়যন্ত্রসহ পরিচয় পত্র চুরিরও অভিযোগ নিয়ে আসা হয়।
অভিযোগে বলা হয় তারা যে প্রতিষ্ঠান থেকে এই হ্যাকিংয়ের কাজ করে তা হলো মাবনা ইনস্টিটিউট (Mabna Institute)। যার দুইজন প্রতিষ্ঠাতা অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে যুক্তরাস্ট্রের এক মুখপাত্র জানায়, ' আমরা প্রতিষ্ঠানের ওপর এই জন্য নিষেধাজ্ঞা দিয়েছি যাতে করে তারা এ ধরনের কাজ না করতে পারে। পাশাপাশি আমরা আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে হ্যাকিংয়ের বিষয়ে অবহিত করছি।
তিনি আরও বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা গ্রেফতারের ভয়ে বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশে ভ্রমণ করতে পারবেনা এবং প্রতিষ্ঠানটি তার দেশের বাহিরে কোন কাজ করতে পারবে না।
নিষেধাজ্ঞাটি যুক্তরাষ্ট্র এমন এক পর্যায়ে নিয়েছে যখন ইরানের ওপর তাদের কিছু কঠোর পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত ঝুলছে।
গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচ আর ম্যাকমাস্টারকে বরখাস্ত করে তারা স্থলে জল বোলটনকে নিয়োগ করার ঘোষণা দেয়। জন বোলটন সাবেক জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিলেন এবং ট্রাম্পের মতে এই বোলটনই তাকে সাহস দিয়েছিল ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে।
তার আগে গত সপ্তাহে ট্রাম্প পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনকে সরিয়ে সেখানে সাবেক সিআইএ ডিরেক্টর পোমপিওকে নিযু্ক্ত করে। যাকে ট্রাম্প বোলটনের মতই উৎসাহদাতা মনে করে।
উল্লেখ্য প্রশাসনিক গঠন ট্রাম্পকে ক্রমান্বয়ে উদ্বুত করছে ইরানের বিরুদ্ধে হিংস্র হতে। যার কারণে যে কোন সময় যুদ্ধের সম্ভাবনাসহ ভয়ানক ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে বিশ্ব।
জেড





