ইবোলা প্রাদুর্ভাবের পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪,৪৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে। বেশিরভাগ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে পশ্চিম আফ্রিকায়।

জাতিসংঘের ইবোলা মিশনের প্রধান অ্যান্থনি ব্যানবারি বলেছেন, মরণঘাতী ইবোলাকে থামানো না গেলে নজিরবিহীন পরিণতি ভোগ করতে হবে। তখন যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে তা মোকাবেলার সক্ষমতা থাকবে না বিশ্বসম্প্রদায়ের।

মঙ্গলবার ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিষদে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি এই হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ইবোলা ভাইরাস প্রতিরোধে বিশ্বসম্প্রদায় পিছিয়ে পড়ছে। ভাইরাসের সঙ্গে দৌড়ে আমরা পারছি না। আর এর ফলে ডিসেম্বর হাজার হাজার লোক এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ব্যানবারি বলেন, আমাদের চেয়ে এবোলা বেশি গতিতে দৌড়াচ্ছে। দৌড়ে সেই জয়ী হচ্ছে।

সিয়েরালিওন, লাইবেরিয়া, গায়নায় ইবোলা আঘাত হেনেছে সবচেয়ে বেশি। ২০১৩ সালের শুরুতে এই ভাইরাস দেখা দেয়। মার্চে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মঙ্গলবার বলেন, এবোলা হুমকি মোকাবেলায় বিশ্ব সম্প্রদায় যা করছে তা যথেষ্ট নয়। ইবোলা সঙ্কট নিয়ে বুধবার তার ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মান ও ইতালির নেতাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ব্যানবারি পশ্চিম আফ্রিকা থেকে ভিডিও লিঙ্কে নিরাপত্তা পরিষদকে বলেন, যদি ইবোলা এখনই না থামে তা হলে বিশ্বকে নজিরবিহীন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে, যা আমাদের ধারণার মধ্যেও নেই।

তিনি বলেন, যদি আমরা এগিয়ে যেতে না পারি, যদি আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছুতে না পারি, তা হলে এবোলা আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাবে এবং তখনকার পরিস্থিতি সামাল দেয়ার অবস্থা থাকবে না। ব্যানবারি ইবোলা চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের জন্য আরো অধিক অর্থ বরাদ্দের দাবি জানান।

জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য প্রমাণে দেখা গেছে, ইবোলা মোকাবেলায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টা বাড়ানো না হলে দুই মাসেই নতুন আক্রান্তের সংখ্য ৫ হাজার থেকে বেড়ে ১০ হাজার ছাড়াবে।

এসএমএ