মায়ানমারের মুসলিম রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বৈষম্য বন্ধে আহবান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বানকি মুন। তিনি বলেছেন, 'কোন বৈষম্য ছাড়াই রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্য দেয়া উচিত'।

বুধবার মায়ানমারের রাজধানী নাইপিদোয় আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে তিনি এ আহবান জানান। দেশটির রাখাইনের পশ্চিম প্রদেশে দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের মৌলিক মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘনের প্রেক্ষিতে তিনি এ আহবান জানালেন।

জাতিসংঘ প্রধান আরও জানান, রাখাইন প্রদেশে যেখানে মুসলিম রোহিঙ্গা উপজাতি আক্রমন ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছে সেখানে জাতিসংঘের প্রবেশাধিকার আরও সহজ করার জন্য মায়ানমারের রাষ্ট্রপতি থেইন সেইনকে তিনি চাপ সৃষ্টি করবেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'আমি বৈষম্য ও নিষ্ঠুরতার শিকার রোহিঙ্গা জনগণের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করছি। মানবাধিকার রক্ষায় আমি মায়ানমারের রাষ্ট্রপতি ও নেতাদেরকে উৎসাহিত করছি। নাজুক পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের মানবিক অধিকার নিশ্চিত করণ ও উস্কানির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও ওই সম্মেলনে ছিলেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য তিনি মায়ানমার সরকারের নিন্দা করেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উপজাতি অঞ্চলে নির্যাতন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি।

রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্যাতনসহ আইনবহির্ভুত হত্যা, ধর্ষণ এবং জবরদস্তি শ্রমের বিষয়টিও উল্লেখ করেন ওবামা।

উল্লেখ্য, মায়ানমারের ৬০ মিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের সংখ্যা ধরা হয় প্রায় ৫ শতাংশ।

জাতিসংঘের মতে, রোহিঙ্গারা হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত জাতি।

রোহিঙ্গা প্রতিরোধে ব্যর্থতার জন্য সবসময়ই মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সমালোচনা করে আসছে মায়ানমান সরকার।

এআর