ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে পরাজিত হয় কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। এরপরই অনেক নেতা-কর্মী দল ছেড়ে চলে যান। এমতাবস্থায় দল মজবুত রাখতে উত্তরের জেলাগুলোকে নিয়ে আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল অথবা পৃথক রাজ্য গড়ার দাবি তুলেছিলেন বিজেপির পার্লামেন্ট সদস্য জন বার্লা।
গত বুধবার (৭ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নতুন মন্ত্রীসভায় জায়গা পেয়েছেন এই সাংসদ।
১৯৬৯ সাল থেকেই উত্তরবঙ্গের সব জেলা নিয়ে কামতাপুর রাজ্য গঠনের আন্দোলন চলে আসছে। সেই আন্দোলনের প্রধান দল কামতাপুর লিবারেশন পার্টি (কেপিপি)। তারা আরও ৬টি দলের সঙ্গে একটি অন্তর্বর্তী জোট গড়ে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন ও নিজেদের দাবি জানিয়ে আসছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি আলিপুরদুয়ার থেকে নির্বাচিত সাংসদ জন বার্লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। গত ৪ জুন এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যেই বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় স্থান পেলেন তিনি। যার ফলে বাংলাকে ভেঙে পৃথক রাজ্য করার দাবি আরও জোড়ালো হলো বলেই জল্পনা বাড়ছে।
গত জুনে সাংসদ জন বার্লা বলেছিলেন, দলকে বাঁচাতে তিনি এই দাবি নয়াদিল্লির লোকসভাতে তুলবেন। এ দাবির সঙ্গে সহমত জানিয়েছেন উত্তরবঙ্গের আরও কয়েকজন বিজেপি সাংসদ। তবে তারা এটাও জোর গলায় বলছেন যে, এটি দলের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নয়।
উত্তরবঙ্গ বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা দীপ্তিমান সেনগুপ্ত বলছেন, উত্তরবঙ্গের জনপ্রতিনিধি হওয়ায় সেখানকার মানুষের হয়তো চাহিদা আছে এবং সেই অনুযায়ী তিনি সেটা তুলে ধরেছেন। জনগণের কোনো দাবির কথা বলাই যায়। তার মানে এই নয় যে এটা দলীয় সিদ্ধান্ত।
এদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ কারো নাম উল্লেখ না করেই বলেছেন, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ ভাগের বিরুদ্ধে এবং এটাই দলের অবস্থান। যদি উত্তরবঙ্গের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা কেউ বাংলা ভাগের দাবি তুলেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কেন্দ্রে অভিযোগ জানানো হবে।
এইচএন





