সমকামী এক অধিকারকর্মী (এলজিবিটি) হত্যা সহ তুরস্কে ‘হেট ক্রাইম’ বা ঘৃণা প্রসূত অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেখানে গত ১৫ই জুলাই অভ্যুত্থান চেষ্টার পর সরকার ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর ব্যাপক ধরপাকড় চালাচ্ছে। সেখানে একই সঙ্গে সংখ্যালঘুদের ওপর ঘৃণা প্রসূত অপরাধের হারও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এরই শিকার হয়েছেন ইস্তাম্বুলে এক এলজিবিবি অধিকারকর্মী। তুরস্কের একটি স্থানীয় পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে এ খবর দিয়েছে ফ্রান্সের একটি অনলাইন। এতে বলা হয়েছে, ওই এলজিবিটি অধিকারকর্মীর নাম হান্ডে কাদের (২২)। সম্প্রতি তাকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। তার গলিত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে ৮ই আগস্ট। ইস্তাম্বুলের একটি আবাসিক এলাকায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায় তার মৃতদেহ।
ডিএনএ পরীক্ষা করে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। ইস্তাম্বুলে এলজিবিটি অধিকার বিষয়ক সংগঠন এসপিওডি’র পরিচালক এমিরহান দেনিজ সেলেবি এ হত্যার নিন্দা জানিয়েছেন। এর নিন্দা জানিয়েছে আরও বিভিন্ন এলজিবিটি বিষয়ক সংগঠন। তারা অভিযোগ করেছেন, এলজিবিটি অধিকারকর্মী হত্যার প্রেক্ষিতে দেশের মূলধারার মিডিয়াগুলো ছিল নীরব।
এলজিবিটি বিষয়ক অধিকারকর্মী বা এর সদস্যদের এক চোখে দেখা হয় না। গত বছর হান্ডে কাদেরকে ‘গে প্রাইড প্যারেড’ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ওই র্যালিটি এলজিবিটির সদস্যদের সমান অধিকারের দাবিতে বের করা হয়েছিল। তাতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। এরপর গ্রেপ্তার করে হান্ডে কাদেরকে। এরপর থেকেই এলজিবিটি সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি প্রতীক হয়ে ওঠেন তিনি। দেনিজ সেলেবি বলেছেন, আমাদেরকে হত্যা করা হচ্ছে। আমাদের কথা শোনা হচ্ছে না।
কারণ, তুরস্কে আমরাদের নিরাপত্তার কোন আইন নেই। ওদিকে হান্ডে কাদেরের মৃত্যুতে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ক্ষুব্ধ সমর্থকরা সামাজিক মিডিয়াতে প্রচারণা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে তারা টুইটারে হ্যাসট্যাগ চালু করেছে। গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় এলজিবিটি অধিকারকর্মীরা রাজধানীতে সমাবেশ করেন। তারা জাতীয় পার্লামেন্টের বাইরে একটি সংবাদ সম্মেলন করে। এতে নিত্যদিন সেখানে এলজিবিটি সদস্যরা যেসব ঝুঁকি মোকাবিলা করছেন তা জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়।
সিরিয়ার এক সমকামী শরণার্থীকে শিরñেদ করার দু’সপ্তাহেরও কম সময়ে হান্ডে কাদেরকে হত্যা করা হয়েছে। হান্ডে কাদেরের মৃতদেহ যেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ওই শরণার্থীর মৃতদেহও তার কাছাকাছি স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। সিরিয়ার ওই সমকার্মী শরণার্থীর নাম মুহাম্মদ ওইসাম সাঙ্কারি। তাকে হত্যার আগে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে।
গত মাসের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। ফলে সমকামী নারী পুরুষ, এলজিবিটি সম্প্রদায়ের সদস্যদের অধিকার স্তিমিত হয়ে পড়েছে। প্রতিবেশী যুদ্ধকবলিত সিরিয়া ও ইরাক থেকে অনেক মানুষ জীবন বাঁচানোর তাগিদে তুরস্কে ছুটে যান। কিন্তু সেখানে এলজিবিটি সদস্যদের নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেনিজ সেলেবি বলেছেন, অভ্যুত্থান চেষ্টার পর আমার অনেক হিজরা বন্ধু আমাকে ফোন করেছেন। তারা বলেছেন, তাদের সঙ্গে বৈষম্যমুলক আচরণ করা হচ্ছে। তুরস্কের আইনজীবী ও এলজিবিটি অধিকার বিষয়ক কর্মী লেভেন্ট পিসকিন বলেছেন, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের অতিরক্তি বাড়াবাড়িতে সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তুরস্কে এ সম্প্রদায়ের মানুষের প্রকৃতপক্ষে কোন আইনগত অধিকারই নেই।
এসএ





