থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে মুসললিম স্বাধীনতাকামী সংগঠনের পাঁচ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ায় নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠিগুলো। শুক্রবার এ নিন্দা জানায় মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
মানবাধিকার গোষ্ঠিগুলো জানায়, এই শাস্তি থাইল্যান্ডের গোলযোগপূর্ণ দক্ষিণাঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তেমন অবদান রাখবে না। খবর এএফপি’র।
থাইল্যান্ডের সর্বাধিক প্রচারিত পত্রিকা থাই রাথ জানায়, ২০১৩ সালের জুলাই মাসে চার সৈন্যকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে পাত্তানির প্রাদেশিক আদালত বুধবার তাদের বিরুদ্ধে এ রায় প্রদান করে।
মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া এই পাঁচ স্বাধীনতাকামীরা হলেন- ইসমাইল দাওঙ্গ, মাসাহাদি মেথোর, গোরদাই জাতাই, নিমুহাম্মুদ নিসেঙ্গ ও হিজবুল্লাহ বুয়েসা।
২০০৪ সাল থেকে থাইল্যান্ডের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দক্ষিণাঞ্চলে সহিংসতায় কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এদের অধিকাংশই বেসামরিক লোক।
এমন একটি অঞ্চলে এই মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করা হলো যেখানে প্রায়ই অভিযুক্ত থাই সৈন্যদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়। মানবাধিকার কর্মীরা এই মৃত্যুদণ্ডের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গবেষণা পরিচালক রুপার্ট অ্যাবোট বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ড প্রদানে এমনিতেই মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়। পাঁচ বিচ্ছিন্নতাবাদীর বিরুদ্ধে এই রায় থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে উপর্যুপরি সহিংসতা হ্রাসে কোন প্রভাব ফেলবে না।’
ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব হিউম্যান রাইটস (এফআইডিএইচ)-এর মুখপাত্র অ্যান্ড্রিয়া জিয়োরগেটা বলেন, ‘থাইল্যান্ড বরাবরই মৃত্যুদণ্ড তুলে নেয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে আসছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে আইনপ্রণেতারা এই শাস্তি হ্রাস না করে বৃদ্ধি করায় এই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটছে না। দেশটিতে সর্বোচ্চ অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে এবং আদালতগুলোও মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিচ্ছে।’
এফআইডিএইচ এর মতে, চলতি বছরের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত থাইল্যাণ্ডের কারাগারগুলোতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত ৬২৩ বন্দি রয়েছে। এদের মধ্যে ৫৭২ জন পুরুষ ও ৫১ জন মহিলা। এদের অধিকাংশকে মাদক সংক্রান্ত অপরাধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়েছে।
থাইল্যান্ডে ২০০৯ সালে মাদক পাচারের অভিযোগে সর্বশেষ দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগে তাদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়।
এমএ





