বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছেই। প্রতিদিনই নতুন নতুন দেশে ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাসটি।

করোনাভাইরাস এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১০৩ দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, শনিবার (০৭ মার্চ) রাত পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া এই রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৬ হাজার ২০৩ জন। আক্রান্তের সংখ্যা লাখ পেরিয়ে গেলেও সে হারে মারা যায়নি।

ডব্লিউএইচও বলছে, এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬০০ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে ৬০ হাজার ১৯০ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

আক্রান্ত ও মৃতের তালিকার ৯০ শতাংশই ভাইরাসটির উৎপত্তিস্থল চীনে।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, শুধু চীনের মূল ভূখণ্ডেই করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৬৯৬ এবং এতে ৩ হাজার ৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

চীনের পরই ভাইরাসটি সবচেয়ে বেশি থাবা বসিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। দেশটিতে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ হাজার ১৩৪ জন। মৃত্যু হয়েছে ৫০ জনের।

আক্রান্তের দিক থেকে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে কম হলেও চীনের বাইরে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ইতালিতে। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৮৮৩ এবং মৃত্যু হয়েছে ২৩৩ জনের।

মৃতের সংখ্যায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইরান। এখন পর্যন্ত ইরানে ৫ হাজার ৮২৩ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ১৪৫ জন।

এদিকে, প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ৭৬ জন রোগী শনাক্ত হওয়ার পর জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।  

গতকাল (০৭ মার্চ) শনিবার বিকেলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো। নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে এই তথ্য জানানো হয়।

কুমো জানান, স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য প্রতিরক্ষামূলক জিনিসপত্র কিনতে ৩০ মিলিয়ন ডলার খরচ করতে চান তিনি। করোনাভাইরাস নিয়ে বেশি আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে শান্ত থাকতে বলেছেন তিনি। সেইসঙ্গে রাজ্যের কোথাও যেন বড় জমায়েত না হয়, সে ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে বলেছেন।

নিউইয়র্কের মেয়র বলেন, চার হাজারের বেশি মানুষ করোনাভাইরাস আতঙ্কে নিজে থেকেই কোয়ারেন্টাইনে চলে গেছে। অনেকে কোনো নির্দেশ মানছে না।

এমবি