ভারতে শিশু বিক্রির ঘটনা প্রায়ই শোনা যায়। অনেক স্থানে গোপনে এ কার্যক্রম চললেও দেশটির নবগঠিত তেলেঙ্গানা রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে তা প্রকাশ্যেই চলছে।

সম্প্রতি এনডিটিভির এক প্রতিবেদক ও শিশু অধিকার কমিশনের কয়েক সদস্য শিশু কেনা-বেচার বিষয়টি অনুসন্ধানে নলগোঁদা জেলায় যায়। জেলাটি রাজ্যের রাজধানী হায়দারাবাদ থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। প্রত্যন্ত এ জেলায় গিয়ে ক্রয়ের জন্য শিশুর খোঁজ করে তারা।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র অর্ধদিবস ঘুরেই ক্রয়ের জন্য শিশুর খোঁজ পেয়ে যান তারা। সরকারচালিত একটি হোমে বিক্রিতব্য এক পরিত্যক্ত মেয়েশিশুর কথা জানানো হয় তাদের। অবশেষে দুইদিন পর তারা ২ মাস বয়সী ভবানীর খোঁজ পান। বলা হয়, ৩০ হাজার রুপির বিনিময়ে ভবানীকে কিনতে পারবেন তারা।

দেবরাকোন্দায় পৌঁছানোর পর স্থানীয় এক অটোরিকশাচালক তাদের শিশুগৃহে নিয়ে যায়। এক মধ্যস্ততাকারী জানান, আপনারা এখান থেকে পছন্দ মতো শিশু কিনতে পারবেন। সেখানে ৮-১০ জন মেয়েশিশু ছিল।

প্রতিনিধি দলটি ছেলেশিশু আছে কি না জিজ্ঞাসা করলে ওই ব্যক্তি জানান, সেখানে এই মুহূর্তে কোনো ছেলেশিশু নেই। শিশু কেনার জন্য সন্ধ্যায় হোমটির দায়িত্বরত কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করতে বলেন তিনি।

ওই কর্মকর্তা এলে জানতে পারেন তারা অর্থের বিনিময়ে যে কোনো শিশুকে কিনতে পারবেন। এখানে থাকা শিশুদের পছন্দ না হলে হোয়াটসঅ্যাপ বা ই-মেইলের মাধ্যমে তাদের কাছে অন্য শিশুদের ছবি পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

একটি শিশু কিনতে হলে অন্তত ৩০ হাজার রুপি লাগবে বলেও জানান তিনি।

শিশু কেনা-বেচার জন্য রয়েছে দালাল। এদেরই একজন কামলি বাই। তিনি জানান, ৩০ হাজার রুপির শিশু কেনার জন্য সব মিলিয়ে অন্তত ৫০ হাজার রুপি লাগবে। অবশেষে ওই পরিমাণ অর্থ দিয়েই ভবানীকে কেনে প্রতিনিধি দলটি।

শিশু কেনা-বেচার খবর জানতে গিয়ে প্রতিনিধি দলটি জানতে পারে, যে সকল দম্পতি ছেলেশিশুর আশায় অনেক মেয়েশিশু নিয়েছেন তারা এখানে শিশু বিক্রি করতে দেন। এ ছাড়া অযাচিতভাবে জন্ম নেওয়া অনেক শিশুও রয়েছে।

এদিকে এনডিটিভির এ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে তেলেঙ্গনা প্রশাসন। রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ মাহমুদ আলী বুধবার জানিয়েছেন, শিশুপাচারের বিষয়টিতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিষয়টি তদন্তে নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এসএইচ