পররাষ্ট্র সচিবকে বরখাস্তের কয়েকদিনের মাথায় ‘বাধ্যতামূলক’ পদত্যাগ করলেন ভারতের স্বরাষ্ট্র সচিব। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের কাছে বুধবার রাতে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন স্বরাষ্ট্র সচিব অনিল গোস্বামী। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন এল সি গয়াল।

পশ্চিমবঙ্গের আলোচিত সারদা আর্থিক কেলেঙ্কারী নিয়ে সিবিআইয়ের তদন্তে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগে অনিল গোস্বামীকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে গত সপ্তাহে দেশটির পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংকে বরখাস্ত করা হয়। এ নিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দুই সচিবকে সরালো মোদি সরকার।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বুধবার জানিয়েছিলেন, সারদার ঘটনায় সিবিআই তদন্তে কোনো রকম হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না।

সিবিআই সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার। সারদা আর্থিক দুর্নীতিতে অভিযুক্ত সাবেক ইউপিএ সরকারের মন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা মাতঙ্গ সিংকে কলকাতার নিজস্ব দফতরে গ্রেফতার করে সিবিআই। গ্রেফতারের আগে ওই দিনই মাতঙ্গকে বাঁচাতে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের প্রধান কর্মকর্তাদের ফোন করেছিলেন অনিল গোস্বামী।

অনিল গোস্বামী সিবিআইকে ফোন করায় বিষয়টি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে বুধবার সকালে অনিল গোস্বামীর সঙ্গে বৈঠক করেন রাজনাথ সিং।

তবে নিজের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অনিল। তিনি বলেন, ‘আমি সিবিআইকে ফোন করিনি। মাতঙ্গ সিংই আমাকে ফোন করে বলেছিলেন, কথা বলুন। তখন আমি সিবিআইয়ের কাছে মামলার স্ট্যাটাস জানতে চাই। সারদাকাণ্ডে অভিযুক্ত মাতঙ্গ সিংয়ের গ্রেফতার এড়াতে কোনো রকম প্রভাব খাটাইনি।’

জানা গেছে, এরপর বুধবার রাতে অনিল গোস্বামীকে ‘সম্মানের সঙ্গে’ পদত্যাগের নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সঙ্গে সঙ্গেই পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন অনিল।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে উল্লেখ করেছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সিবিআই কর্মকর্তা অনিল সিনহা দাবি করেছেন তাদের কাছে স্বরাষ্ট্র সচিবের ফোনে কথোপকথনের রেকর্ডিং রয়েছে। এরপর স্বরাষ্ট্র সচিব অনিল গোস্বামীর সঙ্গেও বৈঠক করেন সিনহা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে আরও বলা হয়েছে, এই ফোনালাপের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে ফোনে জানান রাজনাথ সিং। প্রধানমন্ত্রীর দফতরে প্রতিবেদনও পাঠানো হয়। এরপরই অনিলকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এএইচ