ভারত শাসিত কাশ্মীরে শনিবার ২ লক্ষাধিক লোক পানিবন্দী রয়েছে। এদিকে বন্যার পানি নেমে গেছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিমলয়ের এই অঞ্চলটিতে ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালিয়েছে। বন্যায় পার্শ্ববর্তী দেশ পাকিস্তানেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

পাকিস্তান ও ভারতে কয়েক দিন ধরে চলা টানা মৌসুমী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ৪৫০ জনের বেশি লোক প্রাণ হারিয়েছে। উদ্ধারকর্মীদের এই বিপুল পরিমাণ ধ্বংসযজ্ঞ সামাল দিতে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। খবর এএফপি’র।

বন্যার পানি ধীরে ধীরে সরে যেতে শুরু করায় উদ্ধার কর্মীরা ভারত শাসিত কাশ্মিরের প্রধান শহর শ্রীনগর ও এর আশপাশের আরো বেশি স্থানে যেতে পারছে। এক শতাব্দীর মধ্যে এটাই এই এলাকার সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা।

জম্মু অঞ্চলের বিভাগীয় কমিশনার শান্তমানু বলেন, ‘বন্যার পানি কমতে শুরু করায় উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা এখন বাড়িঘরে ঢুকে আটকে পড়া মানুষ ও মৃতদেহ উদ্ধার করে আনতে পারছেন।’

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের হিসেব অনুযায়ী, গোলযোগপূর্ণ অঞ্চলটিতে ভয়াবহ প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে আনুমানিক ২০০ লোকের মৃত্যু হয়েছে এবং ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। ১৯৮০’র দশকের শেষ দিক থেকে কাশ্মিরের বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গিরা সেখানে ভারত শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে।

শান্তিমানু আরো বলেন, ‘এখনো ওই অঞ্চলে আনুমানিক দুই লক্ষাধিক লোক আটকা রয়েছেন।’

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ্ জানান, আসন্ন শীতের আগেই ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর পুনঃনির্মাণ করা হবে।

শীত মৌসুমে কাশ্মিরে মারাত্মক শীতের তীব্রতা দেখা দেয়।

আব্দুল্লাহ্ শ্রীনগরে প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে বলেন, ‘শীতকালে মানুষের তাঁবুতের বাস করার প্রশ্নই ওঠে না।’

তিনি আরো জানান, শুধু কাশ্মির উপত্যকাতেই ১৩৭টি ত্রাণ শিবির কাজ করছে। ত্রাণ কর্মীদের আরো ১০ হাজার মানুষ সাহায্য করছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘খাবার পানির সংকট রয়েছে। রোগ যেন ছড়াতে না পারে সেজন্য আমি কর্তৃপক্ষকে ওষুধ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি।’

রাজ্য সরকার জানিয়েছে, বন্যায় যাদের বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে তাদের প্রত্যেককে প্রাথমিকভাবে ৭৫ হাজার রুপি ও ছয় মাসের বিনামূল্যে খাবার দেয়া হবে।

বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় কাশ্মিরে আটকা পড়া পর্যটকরা বিমানবন্দরে ছুটে গেছেন। তবে পর্যাপ্ত সংখ্যাক ফ্লাইট ছাড়া হচ্ছে না।

পাঁচ হাজারের বেশি লোক বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছে।

ঢাকা, ১৩ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমএ