সুদানের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরকে বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য ফেডারেল বিষয়ক
মন্ত্রী বুছাইনা দিনার এই ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'সরকার আইসিসির নীতিমালায় সম্মতি দেয়ার ফলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বশির ও অন্য অপরাধীদের আইসিসির কাছে হস্তান্তর করার।'

তিনি আরও বলেন, সুদানের আদালতে বশিরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অন্য অপরাধের অভিযোগে চলমান মামলার বিচার শেষ হওয়ার পর আইসিসির কাছে সুদানের সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে হস্তান্তর করা হবে।

এর আগে এই মাসের শুরুতে নেদারল্যান্ডের হেগভিত্তিক জাতিসঙ্ঘের অধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান কৌসুলি পদে দায়িত্ব পালনের মেয়াদ সমাপ্ত করা ফাতু বেনসুদা সর্বশেষ বিবৃতিতে সুদানের পশ্চিমে দারফুর অঞ্চলে সংগঠিত যুদ্ধাপরাধের দায়ে ওমর আল-বশির ও অপর তিন অভিযুক্তকে আইসিসির কাছে হস্তান্তরের আহ্বান জানান।

২০০৩ সালে সুদানের দারফুর অঞ্চলে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু হলে তৎকালীন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরের সরকার তা সামরিক শক্তির জোরে দমন করেন। সংঘাতের জেরে ওই অঞ্চলে তিন লাখ বাসিন্দা নিহত হয়। বাস্ত্যুচ্যুত হয় আরো ২৭ লাখ বাসিন্দা।

দারফুরে সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ২০০৫ সালে ওমর আল-বশির, সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আবদুর রহিম মোহাম্মদ হুসাইন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমদ হারুন ও দারফুরের আরব সশস্ত্র সংগঠন পপুলার ডিফেন্স ফোর্সের নেতা আলী কুশাইবের বিরুদ্ধে আইসিসিতে অভিযোগ গঠন করা হয়।

১৯৮৯ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন সুদানের সেনাবাহিনীর তৎকালীন কর্নেল ওমর আল-বশির। প্রায় ৩০ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ২০১৯ সালে তার পদত্যাগের দাবিতে সুদানজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়।

বিক্ষোভের জেরে ২০১৯ সালের এপ্রিলে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ওমর আল-বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করে সুদানের সামরিক বাহিনী। তথ্যসূত্র : আনাদোলু এজেন্সি ও আলজাজিরা।

এবিএস