সাত সপ্তাহ ধরে চলা ইসরাইলি আগ্রাসন বেশ কিছুদিন হলো বন্ধ হয়েছে। কিন্তু ভয়াবহ সেই হামলার দুঃসহ স্মৃতি আজও প্রতিমূহুর্তে তাড়া করে ফিরছে গাজার বাসিন্দাদের। বিশেষ করে কোমলমতি শিশুদের স্মৃতিতে আটকে থাকা সেই লোমহর্ষক দৃশ্যগুলো যেন কিছুতেই দূর করা যাচ্ছে না। লাখ লাখ কচি প্রান আজ মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত।
এখনও দু’চোখের পাতা এক করতে পারে না বেঁচে থাকা কচি মুখগুলো। চোখের সামনে ভেসে উঠে বাবা-মা, ভাই-বোনের রক্তাক্ত শরীর। প্রাণ ভয়ে ছুটে পালানো মানুষের আর্তচিৎকার। কিছুতেই যে ভুলতে পারে না যুদ্ধের দুর্বিসহ স্মৃতি। চোখজোড়া ছলছলিয়ে উঠে।
আল জাজিরার সাংবাদিক অ্যান্ড্রু সিমনস গাজা থেকে তুলে ধরেছেন সেই ছবি। জানিয়েছেন কিভাবে বেঁচে আছে ফিলিস্তিনি শিশুরা। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী অন্তত ৪ লাখ শিশু বর্তমানে শারিরীক ও মানসিকভাবে পঙ্গু।
যুদ্ধ পরবর্তী গাজায় তিন লাখ ৭০ হাজারের বেশি শিশু এখন মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তাদের স্বাভাবিক করার জন্য প্রয়োজন মানসিক চিকিৎসক। কিন্তু অবরুদ্ধ গাজায় তা কি করে সম্ভব? তবুও যে কয়জন মনোচিকিৎসক আছেন তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি এগিয়ে এসেছে কয়েকটি এতিমখানা। তারা ওই শিশুদের নানাভাবে ভুলিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু কতক্ষণ?
খেলনা হাতে নিয়েই ফ্যালফেলিয়ে তাকিয়ে থাকছে ওরা। যেন এখানে থেকেও নেই। শিক্ষকরা কিছু জিজ্ঞেস করতেই চোখ ছলছল করছে। কিন্তু বলে বোঝাতে পারছে না কিছুই। তবুও হাল ছাড়ছেন না শিক্ষকরা। এ অবস্থা মোকাবেলা করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করছেন ওদের।
উল্লেখ্য, সাত সপ্তাহের দখলদার ইসরাইলের নারকীয় হত্যাযজ্ঞে গাজায় প্রান হারায় ৫ শতাধিক শিশু। আহত হয় আরও বেশ কয়েক হাজার।
ঢাকা, ১৪ সেপ্টম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, কেবি





