দুনিয়াজুড়ে চলমান ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রজ্ঞার সাথে কাজ করতে বিশ্ব মুসলমানদেও প্রতি আহবান জানিয়েছেন বিশ্বের মুসলিম স্কলাররা। বিশ্বব্যাপী অব্যাহত নেতিবাচক প্রচারণার মোকাবেলায় ইসলামের মানবিক ও কল্যাণকর বিষয়গুলোর প্রসারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত হফস্ট্রা ইউনিভার্সিটিতে গত ৮ ও ৯ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী মুসলমানদের সর্ববৃহৎ সংগঠন মুসলিম উম্মাহ অফ নর্থ আমেরিকার আয়োজিত কনভেনশনে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন বক্তারা। যুক্তারাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেট থেকে প্রায় ৬ হাজার নারী-পুরুষ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অংশ নেন।
কনভেনশনে বক্তারা বলেন, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ইসলাম বিরোধী প্রচারণায় যতগুলো মাধ্যম ব্যবহার হচ্ছে, ইতিবাচক দিকগুলো প্রসারে সে তুলনায় প্রচেষ্টা খুবই সামান্য। অপরদিকে মানবিক ও সমাজের কল্যাণকর বিষয়গুলোতে মুসলমানরা অনেক পিছিয়ে আছে। ফলে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের কাছে ইসলামেদর নেতিবাচক বিষয়গুলোই মুখ্য হিসেবে কাজ করছে। ‘ডিভাইন মেসেজ: রোড টু সাকসেস’ প্রতিপাদ্য বিষয়ে এই কনভেনশনে আমেরিকা ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ইসলামিক স্কলাররা অংশগ্রহণ করেন।
মুনার কেন্দ্রিয় সভাপতি ডা. সাইদুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কনভেনশনে বক্তব্য রাখেন প্রখ্যাত ইসলামিক বিশেষজ্ঞ ইমাম সিরাজ ওয়াহাজ, মাজেন মোক্তাদি ,ইমাম আবদুল মালিক. ড. আবদুল বারী, শেখ কামাল আল মালিকি, মাওলানা তারেক মনোয়ার, উস্তাদ মোহাম্মদ বাজুর, শেখ কামাল আল মালিকি প্রমুখ।
মুনা’র কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. সাইদুর রহমান চৌধুরীর বক্তব্যে বলেন, কনভেনশনের মাধ্যমে আমেরিকায় বাংলাদেশি মুসলমানদের পরিবার পরিজনকে একসঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। একইসাথে এ কনভেনশনের মাধ্যমে ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনে ইসলামী সংস্কৃতি চর্চাকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে মায়ের পেটে বাচ্চাকে গুলিবিদ্ধ করা হচ্ছে, কম্প্রেসার দিয়ে বাতাস ঢুকিয়ে শিশু হত্যা করা হচ্ছে। এসব কিছুই বার্তা বহন করে আমরা কতটুকু ইসলামকে ধারণ করতে পেরেছি। মূলত পরিবার-সমাজে ইসলামী জীবন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে এসব অনাচার ঘটতো না।
ইমাম সিরাজ বলেন, মুসলমানদের হারানো গৌরব ফিরে পেতে কুরআনের অনুশাসন মেনে চলতে হবে।
ইমাম আব্দুল মালিক বলেন, আল্লাহর সকল সৃষ্টি মানুষের কল্যাণের জন্য। আর মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে আল্লাহর ইবাদতের জন্য। আমরা সবাই তার মহিমা সম্পর্কে অবহিত। বিলিনিয়র অথবা ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়া আমাদের জীবনের আসল উদ্দেশ্য নয়।
এক্সিকিউটিভ ডিরেকটর অব মুসলিম আমেরিকান সোসাইটি (ম্যাস) মাজেন মোক্তাদি বিশ্বব্যাপী ইসলামের নেতিবাচক প্রচারণা বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, ইসলামের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা নতুন কিছু নয়, এটা আগেও ছিল। ইতিহাস প্রমাণ করে এ ধরণের নেতিবাচক প্রচারণা আমাদের র্দুবল না বরং আরো শক্তিশালী করে।
ওসামা জামাল, মুসলমানদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে, এটা কোন বড় সমস্যা না। সকল মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ইসলামের মৌলিক বিষয়ে একমত হতে হবে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন তৈরিতে মুনা এ কাজটি করে যাচ্ছে।
এছাড়া উত্তর আমেরিকার নতুন প্রজন্মের মুসলিম তরুণ-তরুণীদের জন্য পৃথক কনফান্সের আয়োজন করা হয়। এতে বিপুল সংখ্যক মুসলিম তরুণ তরুণী অংশ নেন। এতে ইসলামের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন হাফিজ জাকির, মোহাম্মদ হাসান, ক্বারী আবদুল্লাহ আল আমিনসহ আরো বেশ ক'জন তরুণ বক্তা। শিশুদের জন্যও পৃথকভাবে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও খেলাধূলার আয়োজন করা হয়। কনভেনশনকে সফল সার্থক করায় বাংলাদেশী মুসলমানদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান কনভেনশনের কনভেনর আবু আহমেদ নূরুজ্জামান।
ইএ/ এআর





