চীনে সরকারী নীতির কট্টর সমালোচক মুসলিম অধ্যুষিত উইঘোর অঞ্চলের গ্রেফতারকৃত শিক্ষাবিদ ইলহাম তুহতি বিরুদ্ধে বিচ্ছিনতাবাদের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
তুহতির বিরুদ্ধে উইঘুরে মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে বিচ্ছিন্নতাবাদে উসকে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
গ্রেফতারের পর থেকে পরিবার ও সমর্থকরা বেইজিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির এ প্রভাষকের অবস্থান জানতে পারেননি। তবে  স্ত্রী গুজালি নুয়ের তার স্বামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে তাকে জানানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে।
তুহতি অধিকাংশ উইঘুর জনগোষ্ঠী বসবাসকারী চীনের পশ্চিমাঞ্চল চিনজিয়েংয়ে চীনা নীতির সবচেয়ে কট্টর সালোচক।
বিশ্ব ইউঘুর কংগ্রেসের নির্বাসিত গোষ্ঠীর অন্যতম মুখপাত্র দিলশাত রেক্সিট বলেছে, তারা আন্তজার্তিক সম্প্রদায়ের কাছে চীনা নীতি পর্যবেক্ষণ এবং একইসঙ্গে এই উইঘুর পন্ডিতের মুক্তির আহবান জানায়। তিনি আরও বলেছেন, চীনের বিচ্ছিন্নতাবাদের অভিযোগ ভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মতামত দলন ছাড়া আর কিছুই নয়।
মার্কিনভিত্তিক উইঘুর মানবাধিকার প্রজেক্টের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তুহতির বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্য দিয়ে কেবল উইঘুরদের ভিন্নমতের প্রতি অসহশীলতাই নয় বরং ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী সম্পর্কিত নীতির বিশ্বব্যাপী সমালোচনার বিরুদ্ধে চীনের একগুঁয়েমিই প্রকাশ পেয়েছে।
গত মাসে গ্রেফতারের পর  থেকে পরিবার এবং নিজের আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি না দেওয়ার অভিযোগ এনে ওই মানবাধিকার সংগঠনটি চীনকে অবিলম্বে তুহতির অবস্থান জানানোর আহবান জানায়।
চীনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আলাদা রাষ্ট্রের দাবিতে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী চিনজিয়েংয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। অবশ্য উইঘুরের মানবাধিকার কর্মীরা এটি অস্বীকার করে চীনের বিরুদ্ধে সেখানে ব্যাপক ধর্মীয় নিপীড়ন এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের অভিযোগ আনেন।
গত অক্টোবরে তিয়েনমিয়েন স্কয়ারে একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় দুইজন পর্যটক এবং তিনজন স্থানীয় মারা গেলে পুলিশ ওটিকে সন্দেহভাজন অঞ্চলের বিদ্রোহীদের কাজ বলে অভিহিত করে এবং এই অজুহাতে সরকার চিনজিয়েংয়ে নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করে। আর তুহতি বাহিনী মোতায়েনের প্রেক্ষাপট রচনায় সরকারের তরফ হতে এই দুর্ঘটনা ঘটনো হয়েছে বলে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন।এরই সূত্র ধরে তুহতিকে গ্রেফতার করা হয় এবং সেই থেকে  চিনজিয়েংয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
[b]ঢাকা, ১ মার্চ (টাইমনিউজবিডিডটকম) // ইএইচ
[/b]