পাকিস্তানে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল এখনো ঘোষণা করা না হলেও বেসরকারিভাবে এগিয়ে আছে ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে চলছে বিতর্ক ও অভিযোগ। এরই মধ্যে পাকিস্তানের প্রধান রাজনৈতিক ৪টি দল এই ফলাফলকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এর মধ্যে সর্বশেষ ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল মুসলিম লীগ-নওয়াজও রয়েছেন।
নির্বাচনের (বিতর্কিত) ফলাফলে জাতীয়ভাবে যেমন এই দলের ভরাডুবি হয়েছে, তেমনি ব্যাক্তিগতভাবে ভরাডুবি দেখতে হচ্ছে এই দলের বড় বড় নেতাদের।
বিশেষ করে কিছুদিন আগেও যিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন সেই শাহিদ খোকন আব্বাসির পরাজয়ে হতাশ তার দল। নওয়াজ শরীফকে আদালত থেকে প্রধানমন্ত্রী পদে অযোগ্য ঘোষণার পর তারই স্থলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন খোকন আব্বাসি।
তিনি বর্তমানে মুসলিম লীগ-নওয়াজের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু নির্বাচনে একটি আসনেও নিজের ব্যাক্তিগত জয় নিশ্চিত করতে পারেননি এই বর্ষীয়ান নেতা। যেটা হয়তো তিনি ব্যাক্তিগতভাবে অথবা রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তি হিসেবে কখনো চিন্তা করতে পারেননি।
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী ইসলামাবাদ ও মুরি (ন্যাশানাল এসেম্বলি) ৫৩ এবং ৫৭ নম্বর আসন থেকে নির্বাচন করেন। কিন্তু এবার কোন আসনেই জয়ের দেখা পেলেননা।
ঠিক একই কুয়ায় পড়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিছার আলী খান। তিনি (ন্যাশানাল এসেম্বলি) ৫৯ এবং ৬৩ নম্বর আসন থেকে নির্বাচন করতেন।এগুলো তার নিজস্ব আসন ছিল। ১৯৮৮ সাল থেকে তিনি এ আসগুলোতে নির্বাচন করেন এবং জয় লাভ করে আসছেন। কিন্তু নিয়তির ধারাবাহিকতা এবারেই ঠেকে গেলো। একটা আসনও ধরে রাখা সম্ভব হয়নি তার পক্ষে।
রাঘববোয়ালদের মধ্যে আরও দলীয় প্রধান হিসেবে হেরেছেন আওয়ামী ন্যাশানাল পার্টি (এএনপি) প্রধান গুলাম আহমেদ বিলর। আজ সকাল দশটায় বেসরকারিভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হলে হেরে যান তিনি।
হেরে যাওয়াটাকে সহজভাবে মেনে নিতে না পারলেও তিনি বলেন, 'এর মানে দিন দিন ইমরানের জনপ্রিয়তা বাড়ছে'।
এইসব রাঘববোয়ালদের সারিতে আরেক জনের চেহারা দেখে হয়তো অনেকেরই পাকিস্তানের সদ্য নির্বাচন নিয়ে হতাশা ও প্রশ্ন বেড়ে যাবে। তার নাম পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রধান (পিপিপি) বিলওয়াল ভুট্টো জারদারি। যিনি মালাকান্দে ৮ নম্বর আসন থেকে ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন।
এছাড়া পাকিস্তানের সাবেক মন্ত্রী তারিক ফযল চৌধুরী হেরেছেন, যে আসনে ২০০৮ সালেও নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি।
এদিকে সর্বশেষ ফলাফল ঘোষণায় রাজধানী ইসলামাবাদের সকল আসনে নিজের পতাকা গেড়ে দিয়েছেন ইমরান খান। সবমিলিয়ে জয়ের বাতাস এখন ইমরান খানের দিকে। সর্বশেষ বেসরকারি ফলাফলে ১১৪ আসনে জয় লাভ করেছেন এই সাবেক ক্রিকেটার। সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে হলে তার আরো প্রায় ২৩ আসন দরকার অর্থ্যাৎ ১৩৭ আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা।
জেড/কেবি





