১৯৯০-এর দশকে সংঘটিত সার্বিয়া যুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে কসোভোর সাবেক প্রধানমন্ত্রী রামুস হারাদিনাজকে গ্রেফতার করেছে স্লোভেনিয়া।
স্লোভেনিয়ার রাজধানীর লিউবিয়ানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে বুধবার গ্রেফতার করে পুলিশ।
হারাদিনাজের এএকে পার্টি ও পুলিশের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
গ্রেফতারের পর কসোভোর বর্তমান বিরোধী নেতা হারাদিনাজ বলেছেন, ‘স্লোভেনিয়ার এমন আচরণ ও ভূমিকা অগ্রহণযোগ্য এবং আমার ও কসোভোর জন্য এটা চরম অবমাননাকর।’
ইন্টারপোলের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী
যুদ্ধাপরাধের বিচার সংশ্লিষ্ট জাতিসংঘের এক আদালতে শুনানির জন্য ২০০৫ সালে প্রধানমন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেন রামুস হারাদিনাজ।
যুদ্ধে সার্ব ও এর মিত্রদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন ও অন্তত ৬০ জনকে হত্যার হুকুম দেওয়ার অভিযোগ দায়ের করা হয় তার বিরুদ্ধে।
প্রথম থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন কসোভোর সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। ২০১২ সালে তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু ১৯৯৮-৯৯ সালের যুদ্ধে বিদ্রোহী কমান্ডার হিসেবে তার ভূমিকার জন্য হারাদিনাজ ইন্টারপোলের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী ছিলেন।
স্লোভেনিয়ার পুলিশ বলেছে, ২০০৬ সালের ইন্টারপোল সেই ওয়ারেন্ট মোতাবেক হারাদিনাজকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
১০০ দিনের প্রধানমন্ত্রী
রামুস হারাদিনাজ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মাত্র ১০০ দিন ক্ষমতায় ছিলেন। তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন ২০০৪ সালের ৩ ডিসেম্বর। আর পদত্যাগ করেন ২০০৫ সালের মার্চে।
তার জন্ম ১৯৬৮ সালের ৩ জুলাই, তৎকালীন যুগোস্লোভিয়ায় (বর্তমানে কসোভো)। যুদ্ধের সময় তিনি ৩০ বছরের এক তরুণ কমান্ডার ছিলেন।
প্রসঙ্গত, সার্বিয়া যুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে একই সপ্তাহে গ্রেফতার করা হলো।
একই দিন বুধবার বসনিয়ার সাবেক এক মুসলিম সেনা কমান্ডারকে গ্রেফতার করে সুইস পুলিশ।
২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে সার্বিয়া থেকে পৃথক হয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করে কসোভো।
ইআর





