ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের প্রভাবশালী নেতা শাবির শাহকে গ্রেফতার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। গতকাল (মঙ্গলবার) গভীর রাতে তাকে শ্রীনগর থেকে গ্রেফতার করা হয়।

আজ (বুধবার) তাকে দিল্লি নেয়া হতে পারে। এছাড়া সন্ত্রাসে অর্থায়ন মামলায় জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে।

শাবির শাহের বিরুদ্ধে গত ২ জুলাই দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্ট জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। ইডি’র আবেদনের ভিত্তিতে ওই পরোয়ানা জারি হয়।

কাশ্মিরের অনন্তনাগের বাসিন্দা শাবির শাহ্ জম্মু-কাশ্মির ডেমোক্রেটিক ফ্রিডম পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট। সংগঠনটি কাশ্মিরি জনগণের আত্ননিয়ন্ত্রণের অধিকারকে সমর্থন করে।

শাবির শাহের বিরুদ্ধে এক দশকের পুরোনো একটি অর্থ পাচারের মামলা রয়েছে। ইডি গত দু’বছরে শাবির শাহকে ৮ বার তলব করলেও তিনি ওই তলবে সাড়া দেননি বলে অভিযোগ।

শাবির শাহ বলেন, তাকে গত ৩ বছর ধরে বাসায় গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। ইডি’র সমনের ভিত্তিতে তার আইনজীবী প্রত্যেকবারই ইডি দফতরে হাজির হয়েছেন।

এদিকে, গত সোমবার এনআইএ’র হাতে গ্রেফতার হওয়া হুররিয়াত নেতা ফারুক আহমেদ দার ওরফে বিট্টা কারাটে, নঈম খান, শহিদুল ইসলাম, আলতাফ আহমেদ শাহ্, মেহেরাজউদ্দিন কালওয়াল, আইয়াজ আকবর এবং পীর সাইফুল্লাহকে গতকাল (মঙ্গলবার) দিল্লির এক আদালত ১০ দিনের জন্য এনআইএ রিমান্ডের নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ৪ আগস্ট ওই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

হুররিয়াত নেতাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান থেকে আর্থিক মদত নিয়ে কাশ্মিরে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগ করেছে এনআইএ। হিজবুল মুজাহিদীন, লস্কর ই তাইয়্যেবা ও অন্য সংগঠনের সঙ্গে যোগসাজশে হুররিয়াত কনফারেন্স অবৈধভাবে ও হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করছে বলে এনআইএ’র দাবি।

এ ব্যাপারে এক বেসরকারি টিভি চ্যানেলের স্টিং অপারেশনে নঈম খান স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে দাবি করা হলেও ভিডিওর পুরোটাই ভুয়া বলে নঈম খান দাবি করেছেন।

হুররিয়াতের একাংশের চেয়ারম্যান মীরওয়াইজ ওমর ফারুক বলেন, সরকার এনআইএকে ব্যবহার করে কাশ্মিরের মানুষের আন্দোলনকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে।

যৌথ প্রতিরোধ আন্দোলনের এক মুখপাত্র হুররিয়াত নেতাদের গ্রেফতারের ঘটনাকে প্রতিশোধমূলক, নির্বিচার ও অবৈধ বলে মন্তব্য করেছেন।
জেড