বিহারের মুজাফফরপুর থেকে রাজধানী দিল্লিতে নিকট আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে এসেছিল ১৫ বছর বয়সী এক টিনেজ মেয়ে শোভা (ছদ্মনাম)। কিন্তু এখানে পৌঁছার পর সে দিল্লিতে সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার রাতে পূর্ব দিল্লির নিউ অশোক নগরে তিন নরপিশাচ তাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায়। তারপর ৫ ঘন্টার ওপরে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় পলিশ গ্রেপ্তার করেছে তিন ধর্ষককে। শুক্রবার সকালে শোভা পুলিশে অভিযোগ করে।

দুই ধর্ষককে সে চিনতে পেরেছে বলে জানায় পুলিশকে। তৃতীয়জনের মুখাবয়ব অঙ্কনে সে পুলিশকে সহায়তা করে। এরপরে শুক্রবার বিকালের দিকেই গ্রেপ্তার করা হয় ওই ৩ ধর্ষককে। ডিসিপি ওমবীর সিং বলেছেন, গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ ও ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ধর্ষিতাকে কাউন্সিলিং করছেন পেশাদাররা। উল্লেখ্য, গত ১১ই ডিসেম্বর সড়ক দুর্ঘটনায় পড়ে শোভার এক নিকট আত্মীয় শয্যাশায়ী। তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাই দিল্লির অধিবাসী ও শোভার এক কাজিন দিল্লিতে একটি বাসার নিচ তলা ভাড়া নেন তাদের ব্যবহারের জন্য। শোভা পুলিশকে বলেছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টার সময় পানি পান করার জন্য সে রান্না ঘর থেকে বের হয়।

এ সময় দু’ব্যক্তি তাকে জাপটে ধরে। মাদক মেশানো একটি রুমাল তার নাকের ওপর চেপে ধরে। এতে অর্ধ অচেতন হয়ে পড়ে শোভা। তাকে ওই বাসারই উপরের একটি কক্ষে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় আরও একজন। তৃতীয় এই ব্যক্তি ওই বাসারই মালিক।

তারা তিনজনে মিলে শোভার মুখে কাপড় গুঁজে দেয়। এরপর তারা মদ পান করে। অল্প পড়েই দুই তরুণ তাকে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় বাড়ির মালিককে তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে শুনতে পায় শোভা।

সে সংকেত বাজানোর চেষ্টা করে। কিন্তু দুই ধর্ষকের একজন তার গলা চেপে ধরে অচেতন করে ফেলে। এর অল্প পড়ে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় বাড়িওয়ালা। সেও তাকে ধর্ষণ করে। পুলিশকে শোভা বলেছে, হয়তো কয়েক ঘন্টা পরে ওই তিন নরপিশাচ তাকে দ্বিতীয়বারে মতো মদ পান করায়।

এ সময় তার শরীর অসাড় হয়ে পড়ে। তারা মনে করে অতিমাত্রায় মদ পান করার ফলে সে মারা গেছে। এরপর তারা তাকে নিচতলায় তার ঘরের বাইরে একটি বেঞ্চের ওপর ফেলে রাখে। ওদিকে তার কাজিন তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে। তিনি বলেছেন, আমি প্রথমে মনে করেছিলাম শোভা হয়তো দোকান থেকে কিছু কিনতে গিয়েছে। গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলেছে।

কিন্তু রান্নাঘরে খাবারের কিছুটা রান্না শেষ হয়েছে। বাকিটা অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এতে আমাদের মনে সন্দেহ ঘনীভূত হয়। আমি ও অন্যরা তাকে খুঁজে না পেয়ে যখন বাসায় ফিরি তখন দেখতে পাই বাসার গেট ভিতর দিক থেকে তালাবদ্ধ করে রাখা। এ সময় বাড়িওয়ালাকে ফোন করি। কিন্তু তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না।

আমাদের একজন তখন গেটের ফাঁক দিয়ে উঁকি দিই। দেখতে পাই ঘরের বাইরে শুয়ে আছে শোভা। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানাই আমরা। পুলিশ আসে। তারা বাড়িওয়ালাকে গেট খুলতে বাধ্য করে।

তারা দেখতে পায় অর্ধ অচেতন হয়ে পড়ে আছে শোভা। তার মুখে ক্ষত চিহ্ন। কাঁধে কামড়ের দাগ। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর শুক্রবার বিকালে সে কথা বলতে সক্ষম হয়। তখনই জানা যায় আসল কাহিনী।

মাহমুদ