ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের একান্ত বিশ্বস্ত এবং তৎকালীন ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারিক আজিজ মারা গেছেন। ইরাকের কারাগারেই বন্দী অবস্থায় ৭৯ বছর বয়সে মারা গেলেন এই বহুল আলোচিত-সমালোচিত রাজনীতিক।

ইরাকের কর্মকর্তারা জানান, সাবেক ইরাকি নেতা সাদ্দামের শীর্ষ ডেপুটিদের অন্যতম আজিজ শুক্রবার বিকেলে মারা যান। এরআগে, বৃহস্পতিবার হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন তিনি।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আজিজের ছেলে জিয়াদ ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, তার বাবার মৃত্যুর সংবাদ সরকারের পক্ষ থেকে কেউ তাদের জানায়নি। স্থানীয় গণমাধ্যমের কাছ থেকেই আজিজের পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর জেনেছেন বলেও অভিযোগ জিয়াদের।

তারিক আজিজ ১৯৮৩ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এবং একইসাথে ১৯৭৯ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত তিনি ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্র্র পরিচালনায় অংশ নেন।

ইরাকের মিখাইল ইউহান্না নগরীতে ১৯৩৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন আজিজ। সাদ্দামের রাষ্ট্র পরিচালনাকালে তারিক আজিজই ছিলেন সর্বোচ্চ পদধারী কোন খ্রিস্টান কর্মকর্তা। তিনি ইরাকের সাবেক ক্ষমতাসীন দল বাথ পার্টির আভ্যন্তরীণ নীতি নির্ধারণী সার্কেলের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য ছিলেন।

সাদ্দাম হোসেনের শাসনামলে দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হওয়ার দায়ে ২০১০ সালে ইরাকের এক উচ্চ আদালত আজিজের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়। আমেরিকার নেতৃত্বাধীন জোট ২০০৩ সালে সাদ্দামকে হটিয় ইরাক দখলের পূর্ব পর্যন্ত দেশটিতে সংগঠিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্যই মূলত আজিজকে দায়ি করে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাজার রায় দেয়া হয়।

২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন আগ্রাসন শুরুর কিছু দিনের মধ্যেই আজিজ আমেরিকার-নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেণ এবং তখন থেকেই তিনি জেলে আটক রয়েছেন।

স্থানীয় প্রতিনিধির বরাত দিয়ে আল জাজিরার রিপোর্টে আরও বলা হয়, ইরাকের বর্তমান প্রশাসনের কাছে পূর্ববর্তী শাসনামলের সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তিদের মধ্যে আজিজ ছিলেন অন্যতম। এমনকী ইরাকে বর্তমানে কর্মরত টেলিভিশন চ্যানেলগুলো এরইমধ্যে আজিজের মৃত্যুর খবরটি অবজ্ঞাভরে এড়িয়ে গেছে।

কেবি