মার্কিন সিনেটর জেফ মের্কলেই বলেছেন, সহিংস জাতিগত নিধন অভিযানের শিকার রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন যুক্তরাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধগুলো ভয়ঙ্কর। এটি আগামী প্রজন্মের বিষয়ে আমাদের চিন্তিত করে তোলে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও রাজ্যের ডেমোক্র্যাট দলের সিনেটর জেফ মের্কলেইর নেতৃত্বে কংগ্রেসের একটি অনুসন্ধানী দল গত নভেম্বরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সফর করেছে। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন- টড ইউয়াঙ্গ, টিম কাইন ও জন ম্যাককেইন। তারা চারজন মার্কিন সিনেটের সামনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে নেয়া প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।
সিনেটর জেফ মের্কলেই বলেন, বাংলাদেশে শরণার্থী শিবিরগুলোত আমি রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলেছি। তাদের কাছে ধর্ষণ ও হত্যার কথা বর্ণনা শুনেছি। আমি অগ্নিদগ্ধ নারীদের সাথেও কথা বলেছি। ঘরে আগুন দেয়ার পর তারা সেখান থেকে পালিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, সেখানে আমি শিশুদের আঁকা ছবি দেখেছি যাতে তারা নির্দোষ গ্রামবাসীকে সেনাবাহিনী গুলি করছে বলে দেখিয়েছে। এমন সহিংস জাতিগত নিধন অভিযানের পর আমাদেরকে অবশ্যই রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।
সিনেটর জন ম্যাককেইন বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে, যা বিস্ময়কর। গত আগস্ট মাস থেকে সাড়ে ছয় লাখের বেশি নারী, পুরুষ ও শিশুকে অকথ্য নির্যাতনের মাধ্যমে পালিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। জাতিসঙ্ঘ এটিকে ‘জাতিগত নিধনের পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ হিসেব বর্ণনা করেছে। তিনি বলেন, এখন বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকার প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু অনেক রোহিঙ্গা মনে করেন ফিরে গেলে তাদের আরো বেশি সহিংসতার শিকার হতে হবে। বিতাড়িত পরিবারগুলোর ফিরে যাওয়া নিরাপদ, স্বতঃস্ফূর্ত ও মর্যাদাপূর্ণ হবে - এমন নিশ্চয়তা থাকতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এ দাবিতে ছাড় দেয়া উচিত হবে না।
সিনেটর টড ইউয়াঙ্গ বলেন, রোহিঙ্গাসহ অন্যান্য জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ভয়াবহ সহিংসতার কারণে লাখ লাখ মানুষ বিতাড়িত হয়েছে। শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন স্বেচ্ছা, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ করে তুলতে আমি সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে কাজ করতে চাই।
সিনেটর টিম কাইন বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অব্যাহত নির্যাতন ও ভয়ঙ্কর জাতিগত নিধন অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। অত্যাচারীদের বিচারের মুখোমুখি না করা পর্যন্ত আমরা দাবি ত্যাগ করবো না।
সিনেটর ও ডেমোক্র্যাট দলের নেতা অ্যাডওয়ার্ড জে মার্কেই বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে বিলম্ব করে বাংলাদেশ সঠিক কাজ করেছে। জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন কখনই সঠিক পদক্ষেপ ছিল না। নিজেদের পুড়িয়ে দেয়া গ্রামে ফিরে যাওয়ার আগে রোহিঙ্গাদের অবশ্যই নিরাপদ বোধ করতে হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন স্থগিত করাকে স্বাগত জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিথার ন্যুয়ার্ট বলেছেন, আমরা নিশ্চিতভাবে একে ভালো ধারণা বলে মনে করছি। রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরা শুধু নিরাপদ হলেই চলবে না, এটা স্বেচ্ছা ও মর্যাদাপূর্ণ হতে হবে। নিরাপদ বোধ না করলে রোহিঙ্গাদের জোর করে ফেরত পাঠানো যাবে না।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী গত মঙ্গলবার থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুই পক্ষেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় তা পিছিয়ে গেছে।
এমবি





