পশ্চিম আফ্রিকায় মহামারি আকারে ছড়িয়েপড়া এবোলা ভাইরাস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করতে লাইবেরিয়াতে দেশব্যাপী কারফিউ জারি করা হয়েছে।

লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট এলেন জনসন সারলিফ বুধবার রেডিও’তে প্রচারিত এক ভাষণে কারফিউ জারি করেন। একইসঙ্গে তিনি মনোরোভিয়ার পশ্চিম প্রান্তে বসবাসরত প্রায় ৫০ হাজার অধিবাসী’সহ দু’টি প্রতিবেশি এলাকাকে জনবিচ্ছিন্ন করে রাখার ঘোষণা দেন।

প্রতিদিন রাত ৯টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ থাকবে। তবে এ কারফিউ কত দিন চলবে তা পরিষ্কার নয়।

এবোলা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে প্রেসিডেন্ট সারলিফ বলেন, “এবোলা সংক্রান্ত স্বাস্থ্য কর্মীদের দেয়া নিয়ম-নীতি, আদেশ ও উপদেশ সবাই অগ্রাহ্য করছে। তারা সরকারের নির্দেশনাকেও অমান্য করছে। ফলে জনসংখ্যাবহুল মনরোভিয়ার ও তার আশপাশে এবোলা ভাইরাস উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলছে।” লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট তার ভাষণে দেশটির বিনোদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখারও নির্দেশ দেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা- হু’র হিসাব অনুযায়ী, পশ্চিম আফ্রিকায় এ পর্যন্ত ১,৩৫০ ব্যক্তি এবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে।  শুধুমাত্র ১৭ ও ১৮ আগস্টের মধ্যে ২২১ জন রোগী সনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১০৬ জন মারা গেছে।

এবোলায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যার দিক দিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে লাইবেরিয়া। দেশটিতে এ পর্যন্ত ৪৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া, সিয়েরালিওন, গিনি এবং নাইজেরিয়ায় এবোলায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।

এবোলা প্রতিরোধ ও এর সংক্রমণ ঠেকাতে এখনো কার্যকর ব্যবস্থা আবিষ্কৃত হয়নি। এবোলায় আক্রান্ত হলে উচ্চ মাত্রায় জ্বর হওয়ার পাশাপাশি রোগীর ডায়রিয়া, বমি ও রক্তক্ষরণ হয়।

আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, ঘাম বা শরীরের অন্য তরল পদার্থের সংস্পর্শে এলে অন্যের দেহে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে। যৌন সংস্পর্শ কিংবা দূষিত মৃতদেহ থেকেও এ ভাইরাস ছড়াতে পারে। বিশেষ এক ধরনের বাদুড়ের শরীরে এই ভাইরাস সুপ্ত অবস্থায় থাকে। এ রোগে আক্রান্ত শতকরা ২৫ থেকে ৯০ ভাগ রোগী মারা যায়।

ঢাকা, ২১ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম,টিআই