লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন সেইভ বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত মীর কাশেম আলীর স্মরণে লন্ডনে এক প্রতিবাদ সমাবেশ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ফাঁসির বদলা ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা নিব। যে আদর্শের জন্য জামায়াত নেতাদের ফাঁসির মাধ্যমে শাহাদাত বরণ করতে হয়েছে, সেই আদর্শ সমাজে ও রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা ফাঁসির বদলা নিব। বাংলাদেশে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চলছে এবং চলবে।
ভারত তাদের অখণ্ড, ভারতের স্বপ্ন প্রতিষ্ঠার জন্য আওয়ামী লীগকে দিয়ে বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের হত্যা করছে। হাসিনা ইতিমধ্যে ভারতের হাতে পুতুলে পরিণত হয়েছে । হাসিনা ইতিহাসের কুখ্যাত ফেরাউন ও হিটলারের চেয়েও জঘন্য খারাপ এবং ইতিহাসের কুখ্যাত স্বৈরাচার খুনি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
গত সোমবার সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের ওয়াটার লিলি মিলনায়তনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবশে ও দোয়া অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ও সেইভ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জমিয়তে ওলামা ইউকের সভাপতি মুফতি শাহ সদর উদ্দিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইউরোপের মুখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা, ইউকে বিএনপি’র সভাপতি এম এ মালেক, খেলাফত মজলিশ ইউকের সভাপতি আব্দুল কাদের সালেহ, শিল্পী নওশাদ মাহফুজ, খেলাফত মজলিশ ইউকের সহসভাপতি মাওলানা শওকত আলী, বিশিষ্ট মানবাধিকার আইনজীবী ব্যারিস্টার বদরে আলম দিদার, নুর বক্স, ডা. মনোয়ার প্রমুখ।
উপস্থিত ছিলেন, গবেষক ও বুদ্ধিজীবী ড. কামরুল হাসান, গবেষক মনোয়ার বদরুদ্দোজা, সাংবাদিক মাহবুব আলী খানশূর, মীর আব্দুল আউওয়াল তারেক, সাংবাদিক আমিমুল আহসান তানিম, মানবাধিকার সংগঠক ফরিদুল ইসলাম, মনিরুল হক, মাহমুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম প্রমুখ।

মুফতি শাহ সদর উদ্দিন বলেন, হাসিনা ইতিহাসের কুখ্যাত জঘন্য হিটলারের চেয়েও খারাপ। ব্রিটিশ সরকারের লজ্জা হওয়া উচিত যে, তারা খুনি হাসিনাকে লন্ডনে আসতে দিচ্ছে নিয়মিত । নির্লজ্জ হাসিনা ভারতের সাথে মিলে দেশে গুম খুন আর হত্যার করছে । প্রকৃত দোষীদের ছেড়ে দিয়ে আজ বাংলাদেশের নাগরিকদের বিচার করা হচ্ছে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগে।
ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা বলেন, সারা বিশ্বের মানবাধিকার সংস্থা একমত যে, মীর কাশেম আলীকে মিথ্যা ও ভুল স্বাক্ষীর মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে হত্যা করা হয়েছে। এটি একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। জাতিসংঘ থেকে শুরু করে সবাই বলছে হাসিনা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জামায়াত নেতাদের হত্যা করছেন। বাংলাদেশে ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমাদের প্রিয় নেতাদের শাহাদাতের বদলা নিব।
তিনি আরও বলেন, আজ ইতিহাস স্বাক্ষী জামায়াত নেতারা অবৈধ অনির্বাচিত সরকারের কাছে আপোষ করেনি। তারা জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছে তারাই সত্যের পক্ষে দেশপ্রেমিক নাগরিক। ইতিহাস আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করেবে না, তাদেরকে একদিন ইতিহাসের কাঠগড়ায়ই দাঁড়াতে হবে।
ইউকে বিএনপি’র সভাপতি এম এ মালেক বলেন, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার হুকুমে জামায়াত নেতাদের হত্যা করা হচ্ছে । বিশ দলীয় জোটের নেতা কর্মীদের গুম খুনের পিছনে ভারতীয় গোয়েন্দারা জড়িত। অনির্বাচিত হাসিনা দেশে খুনের রাজ্যত্ব কায়েম করেছে। হাসিনাকে লন্ডনে প্রতিহত করা হবে। আওয়ামী লীগ হলো মুনাফিক নাস্তিক আর খুনীদের দল। আওয়ামী লীগ দেশে স্বাধীনতার শত্রু, গণতন্ত্রের শত্রু।
খেলাফত মজলিশ ইউকের সভাপতি আব্দুল কাদের সালেহ বলেন, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ যেভাবে হাজার হাজার প্রতিবাদী গণতন্ত্রকামী মানুষকে হত্যা করেছিলো, এখন বাংলাদেশকে সেরকম পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে বর্তমান ক্ষমতালোভী হাসিনা। বিশ্বের মতামতকে উপেক্ষা করে প্রহসনের বিচার মঞ্চস্থ করছে আওয়ামী লীগ এবং মুখে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথিত শ্লোগান নিয়ে বাংলাদেশে বাকশাল কায়েমের সুগভীর ষড়যন্ত্র করছে।

মানবাধিকার সংগঠক ব্যারিস্টার বদরে আলম দিদার বলেন, বাংলাদেশে সামাজিক ন্যায় বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চলছে চলবে। আমাদের নেতাদের হত্যা করে অবৈধ আওয়ামী সরকারের পতন বন্ধ করা যাবে না। বাংলাদেশে নতুন করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হবে আওয়ামী বাকশালীদের পতনের মধ্যদিয়ে।
সভাপতির বক্তব্যে সেইভ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম বলেন, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালের গেট থেকে সরকারি বাহিনী প্রকাশ্যে স্বাক্ষী অপহরণ করে নিয়ে গেলেও ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা সেটাকে আমলে নেননি। অথচ আসামী পক্ষের আইনজীবীকে আদালত থেকে বের করে দেন।
তিনি বিদ্যমান ট্রাইব্যুন্যালকে দলীয় আখ্যা দিয়ে বলেন, বিরোধীদলকে দমনের হাতিয়ার হিসেবে এই ট্রাইব্যুনালকে ব্যবহার করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। আর এ থেকে প্রমাণিত হয় যুদ্ধাপরাধের বিচার নয়, আওয়ামী লীগের মূল টার্গেট জনপ্রিয় ইসলামিক ব্যক্তিবর্গ। সরকার তথাকথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নামে রাজনৈতিক বিরোধীদের নির্মূলের অভিযানে নেমেছেন। দেশের মানুষ দেখেছে, কিভাবে চোর, বাটপার, জালিয়াতদের দিয়ে দেশের সম্মানিত মানুষদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দেয়ানো হচ্ছে।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের গণমানুষের দল হলো ২০ দলীয় জোট। এতে অবৈধ বাকশালীরা আতঙ্কিত হয়ে বিএনপি জামায়াতের নেতা কর্মীদের হত্যা করছে। একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে বন্দী করে রাখছে। আওয়ামী লীগ এখন রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। এদের পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। দেশে জনগণের সংগ্রামের মাধ্যমে আওয়ামীদের কবর রচিত হবে বাংলাদেশে। তখন তাদের ব্রাহ্মণ্যবাদী প্রভুরা রক্ষা করতে পারবে না।
এমবি





