বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন তাঁর ভারতের রেসিডেন্ট পারমিট বা বসবাসের অনুমতির বিষয়ে তৈরী হওয়া জটিলতা নিয়ে আজ ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে দেখা করেছেন।
এর পর মিজ. নাসরিন জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে দীর্ঘদিন ভারতে থাকতে তার কোনও অসুবিধা হবে না।
এর আগে রেসিডেন্ট পারমিট পুন:নবায়নের জন্য আবেদন করার পরে তাঁকে দু'মাসের জন্য পর্যটক ভিসা দেয় ভারত – যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন ওই বিতর্কিত লেখিকা।
তসলিমা নাসরিন আজ দিল্লিতে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন এদেশে তাঁর বসবাস করার অনুমতির ভবিষ্যত নিয়ে কথা বলতে।
গত প্রায় দশ বছর ধরেই মিজ নাসরিন ভারতে রেসিডেন্ট পারমিট নিয়মিত নবায়ন করিয়ে আসছেন – প্রতি বছর। কিন্তু এবারে নবায়নের জন্য আবেদন করা সত্ত্বেও প্রথমে কিছুই জানায় নি ভারত সরকার।
তারপর, কয়েকদিন আগে তাঁকে দু'মাসের পর্যটক ভিসা দেওয়া হয়। তসলিমা নাসরিন এই নিয়ে তাঁর উদ্বেগের কথা ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বিস্তারিত ভাবে জানানোর পরে আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন।
মিজ নাসরিন জানিয়েছেন যে ভারতে দীর্ঘদিন থাকতে যে তাঁর কোনও অসুবিধা হবে না – এই আশ্বাস তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে আজ পেয়েছেন। ওই বৈঠকে নিজের লেখা কয়েকটি বইয়ের হিন্দি অনুবাদ সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন ওই বিতর্কিত লেখিকা।
তিনি আরও জানান যে সুইডেন থেকে বিপুল সংখ্যক বই তিনি ভারতে নিয়ে আসার কথা ভাবছিলেন – পর্যটক ভিসা পাওয়ার পরে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে হবে কী না, সেটাও তিনি মন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন। রাজনাথ সিং জানিয়েছেন যে বইপত্র নিয়ে আসতেই পারেন তিনি – এমনটাই দাবী তসলিমা নাসরিনের।
তসলিমা নাসরিন ২০০৪ সাল থেকেই রেসিডেন্ট পার্মিট নিয়ে কলকাতায় থাকতেন, কিন্তু ২০০৭ সালের শেষ দিকে তাঁর লেখার বিরুদ্ধে কলকাতায় ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল – যা একসময়ে প্রায় দাঙ্গার চেহারা নেয়। তাঁকে কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল আর রাজ্য সরকারকে সেনাবাহিনী নামিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়েছিল।
সেই সময়েই তাঁকে কলকাতা থেকে প্রথমে জয়পুর আর পরে দিল্লিতে নিয়ে যায় ভারত সরকার। মাঝের কয়েকবছর দিল্লি আর বিদেশ মিলিয়ে থাকলেও গত সাড়ে তিনবছর ধরে মিজ নাসরিন ভারতের রাজধানীতেই পাকাপাকিভাবে থাকেন। (সূত্র: বিবিসি বাংলা)
ঢাকা, ৩ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, কেবি





