সম্প্রতি ইরানে ভূপাতিত ইসরাইলি ড্রোন বিমানটিকে ধরাশায়ী করতে মাত্র একটি গুলি ব্যবহার করতে হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ইরানের এক উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা। ইরানের আকাশে ৩ হাজার ৭শ মিটার বা প্রায় ১২ হাজার ১৪৭ ফিট উচুতে উড়ার সময় ড্রোনটিকে ভূপাতিত করা হয় বলেও দাবি ওই কর্মকর্তার।

ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী খাতাম আল আনবিয়ারের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফারজাদ ইসমাইলি বলেন, "আমরা ড্রোনটিকে প্রথমে আমাদের আকাশ সীমায় প্রবেশ করতে দেই এবং ৪৩ মিনিট পর্যন্ত এটাকে ফলো করতে থাকি"।

এর আগে গত ২৪ আগস্ট (২০১৪) ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুসনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে দাবি করে, প্রতিরক্ষা বাহিনী ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপকারী মিসাইলের মাধ্যমে ইসরাইলের একটি গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ইরানের ইসফাহান প্রদেশের মধ্যভাগে অবস্থিত নাতাজ পরমানু কেন্দ্রের দিকে ইসরাইলের নিজস্ব তৈরি হারমেস নামের ওই ড্রোনটি যাচ্ছিল বলেও বিবৃতিতে বলা হয়।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফারজাদ ইসমাইলি অবশ্য দাবি করেন, ইসরাইলের ওই ড্রোনটিকে প্রতিহত করতে সাহাব নামক ইরানের লং রেঞ্জের রাডার প্রযুক্তি মূল ভূমিকা পালন করেছে।

ইরানের এই কমান্ডারের দাবি মাত্র একটি মিসাইল নিক্ষেপ করেই ড্রোনটিকে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছিল তার সদস্যরা।

গত ২৪ আগস্ট ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন ডেহকান কড়া ভাষায় সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইরানি ভূমির বিরুদ্ধে কেউ আগ্রাসন চালাতে আসলে সাথে সাথে তার দাতভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে।

গোয়েন্দা তৎপরতা চালাতে আসা কোন শক্তির ইরানি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর হাতে পর্যুদস্ত হওয়ার এটাই প্রথম ঘটনা নয়।

এর আগে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে ইরানি সেনাবাহিনীর ইলেট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিট যুক্তরাষ্ট্রের 'ইউএস আরকিউ -১৭০' নামক একটি গোয়েন্দা বিমানকে তেমন কোন ক্ষতি ছাড়াই ভূমিতে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ওই ড্রোনটিকে আফগান বর্ডার থেকে প্রায় ২২৫ কিলোমিটার বা ১৪০ মাইল দূরে ইরানের কাশমার শহরের ওপর দিয়ে উড়ার সময় নামিয়ে এনেছিল ইরানি সেনাবাহিনী।

এছাড়া ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুসনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি)২০১২ সালের ডিসেম্বরে 'স্ক্যান ইগল' নামের আমেরিকান আরেকটি ড্রোন ভূপাতিত করেছিল। পারস্য উপসাগরের উপর দিয়ে ইরানের আকাশ সীমায় ঢুকে পড়েছিল মার্কিন ওই গোয়েন্দা বিমান। (সূত্র: প্রেস টিভি)

ঢাকা, ৩১ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, কেবি