ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠির কাছ থেকে ইরাকের ফালুজা শহর পুনর্দখলের জন্য চূড়ান্ত লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে ইরাকের বিশেষ বাহিনী।

সামরিক কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, বেসামরিক নাগরিক হতাহতের ঘটনা সীমিত রাখতে তারা ধীরে এগুচ্ছেন এবং তারা ধারণা করছে হয়তো শহরটি জুড়ে বিভিন্ন গোপন স্থানে বোমা লুকিয়ে রাখা হতে পারে। তারা বলছেন, একটি চূড়ান্ত ফলাফল ছাড়া এই অভিযান শেষ হচ্ছে না ।

তবে তথাকথিত ইসলামিক স্টেটও জোরালো প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে বলেও খবর পাওয়া যাচ্ছে এবং সরকারী বাহিনীও বলছে যে তারা সর্বশক্তি প্রয়োগ করে শহর পুনর্দখলের চেষ্টা করছে।

বাগদাদ থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জানাচ্ছেন ,আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়ে ফালুজার দক্ষিণাঞ্চলে পাল্টা আঘাত হানার চেষ্টা করছে আই এস। কয়েক’শ মানুষ ফালুজা থেকে পালিয়ে পার্শ্ববর্তী বার্জিনজাহ শহরের একটি শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে।

শিবিরে আশ্রয় নেয়া একজন ইমাম বাহজেত ইব্রাহিম বলছিলেন, তার আত্মীয়দের জন্য ফালুজা শহরে থাকা খুব কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে।

বাগদাদ থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দুরে ফালুজা শহরটি থেকে ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠিকে তাড়াতে এক সপ্তাহ আগে অভিযান শুরু করে ইরাকি সরকারী বাহিনী।

মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের যুদ্ধবিমান এবং ইরাকী বিমান বাহিনীর সহায়তায় সম্মুখবাহিনী এরই মধ্যে শহরের উপকণ্ঠে প্রবেশ করেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

ফালুজা শহরটি ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকেই আইএসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আশঙ্কা রয়েছে শহরটিতে আটকে পড়া হাজার-হাজার বেসামরিক নাগরিকের ভাগ্য নিয়ে।

বিবিসি সংবাদদাতা জানাচ্ছেন, পরিষ্কারভাবেই বোঝা যাচ্ছে ইরাকি সরকার ফালুজা পুনর্দখলের বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং এর জন্যে যে পরিমাণ সেনাসদস্য প্রেরণ করা হয়েছে তাতে মনে হচ্ছে এখন এটি শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার।

ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ৫০,০০০ বেসামরিক নাগরিক শহরটির কেন্দ্রে আটকা পড়েছে।

প্রায় নয় মাসের অবরোধের কারণে সেখানে আগে থেকেই খাদ্য এবং ওষুধের সঙ্কট রয়েছে এবং এখন তার সাথে যোগ হয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ লড়াইয়ের বিপদ।সূত্র-বিবিসি।

এমবি