জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য পদে বাংলাদেশের সমর্থন পেতে এবার বাংলায় চিঠি লিখেছে স্পেন। অত্যন্ত অভিনব এই নির্বাচন ক্যাম্পেইন জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনকে অভিভূত করেছে। চার পৃষ্ঠার দীর্ঘ চিঠিটি দিন-দুয়েক আগে ‍বাংলাদেশ মিশনে পৌঁছেছে। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে আবদুল মোমেনের কাছে চিঠিটি লিখেছেন স্পেনের স্থায়ী প্রতিনিধি রোমান অইয়ারযুন। এতে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন আসন্ন নির্বাচনে পশ্চিম ইউরোপ ও অন্যান্য দেশসমূহের গ্রুপের প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশের সমর্থন পাবে তার দেশ স্পেন। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে রাত পোহালেই এই ভোটাভুটি শুরু হবে।

অত্যন্ত গোছানো বাংলায় লেখা এই চিঠিতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘গাহি সাম্যের গান’ থেকে চয়ন করা হয়েছে ‘নাই-দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি’র অংশটুকু।

বলেছেন দারিদ্র, জলবায়ু পরিবর্তন, লিঙ্গ-বৈষম্য, সশস্ত্র সংগ্রাম এখনো আমাদের অনেকের প্রাত্যহিক জীবনের চ্যালেঞ্জ।

চিঠির শুরুতেই বাংলাদেশকে স্পেনের বন্ধুরাষ্ট্র বলে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করেছেন অইয়ারযুন।

বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব, সহানুভূতি ও সহযোগিতার সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অবদানের কথা তুলে ধরে স্পেন অঙ্গীকার করেছে নির্বাচিত হলে বাংলাদেশকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে।
বাংলাদেশও তার কাছের এক সহযোগী বন্ধুকে নিরাপত্তা পরিষদে পাবে।

চিঠি শেষ হয় আবারও সেই কবি নজরুলের সেই অমোঘ বাণী দিয়ে-

এসো ভাই হিন্দু! এসো মুসলমান! এসো বৌদ্ধ!
এসো খ্রিষ্টান! আজ আমরা সব গণ্ডী কাটাইয়া,
সব সংকীর্ণতা, সব মিথ্যা, সব স্বার্থ পরিহার করিয়া
প্রাণ ভরিয়া ভাইকে ভাই বলিয়া ডাকি।

এ প্রসঙ্গে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে আবদুল মোমেন বলেন, জাতিসংঘে নির্বাচনী মওসুম চলছে। বিভিন্ন ধরনের ক্যাম্পেইনও চলছে। তবে স্পেনের কাছ থেকে বাংলায় লেখা চার পৃষ্ঠার একটি দীর্ঘ চিঠি আমাদের অভিভূত করেছে।

তিনি জানান স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গার্সিলা মার্গালো নিজে দেখা করে চিঠিটি হস্তান্তর করেন।

আজ ১৬ অক্টোবর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ভোট। এতে পশ্চিম ইউরোপ থেকে ২টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে নিউজিল্যান্ড, স্পেন ও তুরস্ক।

ড. মোমেন বলেন, হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। কোন দেশ জিততে তা বলা কঠিন।

উল্লেখ্য নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য পদে এবছর এশিয়া অঞ্চল থেকে বাংলাদেশও প্রাথমিকভাবে প্রার্থী ছিলো। জাপানের সমর্থনে সে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিয়েছে বাংলাদেশ।

তবে আগামী ২১ অক্টোবর জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনে বাংলাদেশ সদস্য পদের জন্য একজন শক্ত প্রার্থী। এ জন্য ব্যাপকভিত্তিক ক্যাম্পেইন অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ।

এএইচ