ইরান ইস্যুতে এবার আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিরুদ্ধে বিষোদগার করলেন দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মঙ্গলবার এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প অভিযোগ করে বলেন, ইরান সরকারকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বোকার মত অর্থ সহায়তা দিয়েছিলেন।  ইসরাইলের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক “দি জেরুজালেম পোস্ট”-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ওবামা তার টুইট বার্তায় বলেন, “The people of Iran are finally acting against the brutal and corrupt Iranian regime. All of the money that President Obama so foolishly gave them went into terrorism and into their “pockets.” The people have little food, big inflation and no human rights. The U.S. is watching!”

অর্থাৎ- “অবশেষে ইরানের জনগণ দেশটির নিষ্ঠুর ও দুর্ণীতিবাজ শাসনের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ওবামা বোকার মতো তাদেরকে যে অর্থ দিয়েছিলেন তার সবটাই তাদের পকেটে গেছে এবং সন্ত্রাসবাদের পেছনে খরচ হয়েছে। (ইরানের) জনগণের কাছে এখন সামান্য খাবার রয়েছে, বিশাল মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে এবং সেখানে কোন মানবাধিকার নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে!”

এর আগে সোমবার দেয়া এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প আরো বলেন, “The great Iranian people have been repressed for many years. They are hungry for food & for freedom. Along with human rights, the wealth of Iran is being looted. TIME FOR CHANGE!"

অর্থাৎ- “ইরানের বীর জনতা বহু বছর ধরে নিগৃহিত। তারা খাবার ও স্বাধীনতার জন্য ক্ষুধার্ত। মানবাধিকারের সাথে সাথে ইরানের সম্পদও লুট করা হচ্ছে। এটাই পরিবর্তনের উপযুক্ত সময়!”

সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার প্রতিক্রিয়া

এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনি (Ayatollah Ali Khamenei) মঙ্গলবার এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের পরিস্থিতিকে জটিল করতে শত্রুরা ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে।

নিত্য পণ্যের দাম বৃদ্ধি, ১২ শতাংশ বেকারত্ব এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির দুরবস্থার কথা বলে গত বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর ২০১৭) থেকে ইরানে শুরু হওয়া সহিংস আন্দোলনের ব্যাপারে এই প্রথমবার মুখ খুললেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।

তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ইরানের শত্রুরা ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানকে বেকায়দায় ফেলতে নানা অস্ত্র প্রয়োগ করতে শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে, নগদ অর্থ, অস্ত্র, রাজনীতি ও গোয়েন্দা উপকরণের মতো বিষয়।

প্রক্সি যুদ্ধ (Proxy War)

অপরদিকে, নিত্য পণ্যের দাম বাড়া ও বেকারত্বের প্রতিবাদে ইরানে চলমান সহিংস আন্দোলনকে কয়েকটি বিদেশী রাষ্ট্রের ‘প্রক্সি যুদ্ধ’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি আলী শামখানি (Ali Shamkhani)।

ইরানের এই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদ (Supreme National Security Council -SNSC)- এর সেক্রেটারি সোমবার দেয়া এক বক্তব্যে অভিযোগ করেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানে সম্প্রতি শুরু হওয়া সহিংসতার নেপথ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরবের ভূমিকা রয়েছে।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রচারণা ও হ্যাসট্যাগসহ চলমান আন্দোলনকে সহিংস রুপ দেয়ার ক্ষেত্রে এই দেশগুলো নেপথ্যে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে।  দিতে 

আলী শামখানি  দাবি করেন, তাদের বিশ্লেষণে এটা বেরিয়ে এসেছে যে সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে যতগুলো হ্যাশট্যাগ (hashtags) দেয়া হয়েছে তার ২৭ শতাংশই সৌদি সরকারের মদদে করা হয়েছে।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরানের উন্নতিকে বাধাগ্রস্ত করতেই বিদেশী-মদদপুষ্ট এই হস্তক্ষেপ বলেও মন্তব্য করেন ইরানের নিরাপত্তা কাউন্সিলের এই অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা।

তিনি দাবি করেন, ইরানে এখন যা ঘটছে তা কয়েকদিনের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে এবং এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ারও কিছু নেই।

উল্লেখ্য, ইরানের চলমান সংকটে এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ এ পর্যন্ত ১৪ জন নিহত এবং আরো বহু আহত হয়েছেন বলে খবরে প্রকাশ। আন্দোলন দমনে এ যাবত সাড়ে চারশো’র বেশি লোককে আটক করা হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে আটককৃতদের মধ্য থেকে ১০০ জনকে এরই মধ্যে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে ইরানের সরকারি সূত্রগুলো দাবি করেছে।

কেবি