তিনি ছিলেন কম্বোডিয়ার নারী যৌনদাসী পাচারবিরোধী বিশ্বব্যাপী এক পরিচিত মুখ। নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মর্মান্তিক একটি গল্প বলেছিলেন তিনি। বলেছিলেন, তার দাদাসম এক ব্যক্তি তাকে যৌনদাসী হিসেবে বিক্রি করে দিয়েছিল। এই যৌনদাসীর সোমালি ম্যাম। সুন্দরী সোমালি ম্যাম ২০১২ সালের টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের তালিকায় স্থান পাওয়া অপরাহ উইনফ্রে ও সিএনএনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী নজরে আসেন। এর ফলে ২০০৭ সালে তার নামের পাশে ‘হেরোইন’ কথাটি যুক্ত হয়। সেই খ্যাতি এবং তার স্মৃতিচারণামূলক বই ‘দ্য রোড অব লস্ট ইনোসেন্স’-এর মাধ্যমে যৌন দাসত্ববিরোধী সংগঠন ‘সোমালি ম্যাম ফাউন্ডেশনের’ জন্য বিশ্বব্যাপী লাখ লাখ ডলার যোগাড় করেন তিনি। কিন্তু বিখ্যাত ম্যাগাজিন নিউজ উইকের অনলাইনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী তার ওই কাহিনী মিথ্যা। অর্থাৎ যৌনদাসী হিসেবে তাকে বিক্রি করে দেয়া হয়েছিল- তার এ দাবি মিথ্যা। এমন দাবি করে তিনি লাখ লাখ ডলার তহবিল যোগাড় করেছিলেন একটি ফাউন্ডেশন গড়তে। এ কেলেঙ্কারি প্রকাশিত হওয়ার ফলে সোমালি ম্যাম তারই গড়া ফাউন্ডেশন থেকে পদত্যাগ করেছেন। ক্রমবর্ধমান প্রশ্নের মুখে পড়ে সংগঠনটি একটি স্বাধীন আইনি প্রতিষ্ঠানকে সোমালি ম্যামের অতীত জীবন তদন্ত করতে নিয়োগ দিয়েছে। সোমালি ম্যামের মন্তব্য পাওয়া সম্ভব না হলেও তার ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে। সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক গিনা রেইস-উইলচিনস স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইনি প্রতিষ্ঠানের চেষ্টার ফলে, আমরা সোমালির পদত্যাগপত্র কার্যকর করেছি। হৃদয়বিদারক হতাশা সত্ত্বেও, দুই যুগ ধরে এ ফাউন্ডেশন সৃষ্টিতে সোমালি ম্যামের কঠোর পরিশ্রমের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ, যেটি হাজারো নারীকে রক্ষা করেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নারী-শিশু পাচার ও তাদের জোরপূর্বক যৌনবৃত্তিতে বাধ্য করার মতো ঘটনা বিলুপ্তিতে সংগঠনটি এখনও জোরালো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নিউজ উইকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, সোমালি ম্যামের শৈশবের পরিচিতরা, গ্রামপ্রধানরা এমনকি চাচাতো বোন পর্যন্ত তার বিরোধিতা করেছেন। তার গ্রামের অধিবাসী নিউজ উইককে জানান, তারা কখনই সোমালিকে বিক্রি করে দেয়া সেই ‘নিষ্ঠুর’ দাদাকে, তাকে ধর্ষণ করা ধনী চাইনিজ ব্যক্তি বা তাকে ছোটবেলায় জোরপূর্বক বিয়ে করা এক সৈনিককে দেখেননি! নিউজ উইকের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে সেই গ্রামের প্রধান, বাল্যকালের বন্ধু, চাচাতো বোন, স্থানীয় স্কুলের কর্মকর্তা ও গ্রামের অনেক অধিবাসী বলেছেন, ১৯৮১ সালে সোমালি তার পরিবারের সঙ্গে এ গ্রামে এসেছেন এবং ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত এ গ্রামে সাধারণ জীবনযাপন করেছেন। তারা সবাই বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেয়া সোমালির সাক্ষাৎকারের সঙ্গে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন। এদিকে সোমালির সংগঠনটি বিভিন্ন করপোরেট গ্রুপকে আগ্রহী করে তুলতে পেরেছিল। অভিনেত্রী সুসান সারান্ডন ছিলেন এর উপদেষ্টা কমিটির সদস্য। সংগঠনটির ২০১১ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী একে প্রায় ২১ লাখ ডলার অনুদানের বিপরীতে ৩৬ লাখ ডলার ব্যয় দেখিয়ে ঋণগ্রস্ত দেখানো হয়েছে। ২০১২ সালে প্রায় ২৮ লাখ ডলার আয়ের বিপরীতে ২৩ লাখ ডলার ব্যয় দেখানো হয়েছে। সেই বছর সংগঠনটি প্রায় ১৭ হাজার যৌনদাসীকে সহায়তা করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। কম্বোডিয়ারও অনেক মানুষ ম্যামের ব্যক্তিগত গল্পের প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করে আসছে। অনেকেই নিউজ উইজককে বলেছে, সোমালি আন্তর্জাতিক দাতাদের সামনে বেশ হাসিখুশি ও নরম থাকলেও, অফিসে স্বৈরতান্ত্রিক নীতি অনুসরণ করতেন, এমনকি মেয়েদের দিয়ে তার ব্যক্তিগত কাজও করাতেন। এদিকে সোমালির সংগঠন দ্বারা উদ্ধারকৃত বলে দাবি করা অনেক কথিত যৌনদাসী স্বীকার করেছেন, তারা আসলে যৌনদাসী ছিলেন না। সোমালির সংগঠনের প্রচারণামূলক কাজের জন্য ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে তাদের সোমালি নিজেই প্রস্তুত করেছেন বলে স্বীকার করেছেন তারা। তাদের মধ্যে একজন রাথা, যাকে একটি পতিতালয়ে বিক্রি করা হয়েছে বলে ১৯৯৮ সালে দেখানো হয়েছিল একটি ফরাসি টিভিতে। রাথা স্বীকার করেছেন, তাকে ফাউন্ডেশন অডিশনের মাধ্যমে বেছে নেয়ার পর ক্যামেরার সামনে দাঁড় করায়। সত্যিকার অর্থে রাথা কখনই যৌনদাসী ছিলেন না। ৭ সন্তানের দরিদ্র পরিবার চালাতে টানাপড়েনে পড়ে ১৯৯৭ সালে তাকে তার পিতা একটি নারী আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। এর তখনকার প্রধান ছিলেন সোমালি। রাথার মতো এ রকম অনেকের কথাই উঠে এসেছে নিউজ উইকের রিপোর্টটিতে। [b]ঢাকা, ২ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // এএইচ[/b]
আন্তর্জাতিক
যৌনদাসীর কেলেঙ্কারি
তিনি ছিলেন কম্বোডিয়ার নারী যৌনদাসী পাচারবিরোধী বিশ্বব্যাপী এক পরিচিত মুখ। নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মর্মান্তিক একটি গল্প বলেছিলেন তিনি। বলেছিলেন, তার দাদাসম এক ব্যক্তি তাকে যৌনদাসী হিসেবে বিক্রি করে দিয়েছিল। এই যৌনদাসীর সোমালি ম্যাম। সুন্দরী সোমালি ম্যাম ২০১২ সালের টাইম





