মালয়েশিয়ায় ফিলিস্তিনি প্রকৌশলী ফাদি আল-বাতশকে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন দু’জন হামলাকারীর ছবি প্রকাশ করেছেন দেশটির পুলিশ। সন্দেহভাজন ওই দুই হামলাকারী মোটরসাইকেল ব্যবহার করে ফাদি কে লক্ষ্য করে প্রায় ১৪ টি গুলি ছোড়ে বলে দাবী করেছেন পুলিশ প্রধান মোহাম্মদ ফুজি বিন হারুন।সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। আল-জাজিরা।
মালয়েশিয়ান কর্মকর্তারা বলেছেন, নিহত বাতশের ময়নাতদন্ত রবিবার সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার স্থানীয় একটি মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় ৩৫ বছর বয়সী ফাদি আল-বাতশ নামে ওই ফিলিস্তিনি বিজ্ঞানীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহত ওই বিজ্ঞানী ফিলিস্তিনের এনার্জি সেক্টরের উন্নয়নে কাজ করছিলেন।
পুলিশ প্রধান ফুজি বিন হারুন আরও বলেন,এই ঘটনা তদন্তে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে। সন্দেহভাজন দুই হামলকারী মধ্যপ্রাচ্যের মোসাদ বাহিনীর সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পারে বলেও ধারনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ছবিতে দেখা গেছে তারা উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন, তারা ব্যাকপ্যাক বহন করেছিল, গাঢ় রংয়ের জ্যাকেট এবং হেলমেট পরা ছিল। এ ঘটনায় জড়িতরা ইউরোপিয়ান হতে পারে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
এ জঘন্য হত্যাকানণ্ডে কোন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে কিনা তা নির্ধারণ করতে কয়েকটি বুলেট বিশ্লেষকদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ প্রধান।
এদিকে পুলিশ এই হামলার পর দেশটির সকল স্থানে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার বা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি মালয়েশিয়ার পুলিশ।মালয়েশিয়ায় ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি আনোয়ান আল আঘা বলেন, ফাদির লাশ দাফনের জন্য ফিলিস্তিনে নিয়ে যাওয়া হবে।
ফাদি ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগঠন হামাসের সদস্য ছিলেন বলে আলজাজিরাকে নিশ্চিত করেছেন সংগঠনটির মুখপাত্র হাজেম কাসেম। এক টুইট বার্তায় বলা হয়, গাজা উপত্যকার জাবালিয়ার তরুণ ফিলিস্তিনি পণ্ডিত ছিলেন ফাদি। তাকে শহীদ আখ্যা দিয়ে বলা হয়, এনার্জি সেক্টরের উন্নয়নে খ্যাতিমান এই বিজ্ঞানী ব্যাপক অবদান রাখছিলেন।
এদিকে কুয়ালামপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এই তরুণ বিজ্ঞানীর চাচা জামাল আল বাচ ইসরাইলের গোয়েন্দা বাহিনী মোসাদকে এ হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করেন।
এদিকে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস জানিয়েছে, ফাদি আল বাচ তাদের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে ইসরাইলের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে প্রতিরোধ সংস্থাটি।
শাহরিয়ার আলম





