ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে জার্মান সরকার প্রসপার-হানিয়েল নামে ১৫০ বছরের পুরোনো কয়লার খনিটিও বন্ধ করে দিয়েছে। এর মাধ্যমে বন্ধ হলো জার্মানির সর্বশেষ কয়লা খনিটি।

আর হবে না ‘কালো সোনা’ উৎপাদন
ক্রিসমাসের ঠিক তিন দিন আগে বন্ধ হয়ে গেল খনিটি। শেষ হলো এক সময়ের জার্মানির বিখ্যাত ‘কালো সোনা’ উৎপাদন।

কালো সোনা
উত্তোলনের পর একটি টাওয়ারটির পাশে জমা রাখা হতো কয়লা। তারপর এখান থেকে রেলগাড়িতে করে নিকটবর্তী বন্দরে পাঠানো হতো। উচ্চমানসম্পন্ন হওয়ায়, জার্মান কয়লার খ্যাতি ছিল বিশ্ব জুড়েই।

শক্ত বন্ধন
এ কয়লার খনির শ্রমিকরা শুধুমাত্র ভালো বেতনই পেতেন না, তাঁদের প্রতি সম্মানও দেথানো হতো যথেষ্ট। খনিটিতে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যেও ছিল শক্তাশালী বন্ধন, যেন একে অপরের আত্মা।

কর্মক্ষেত্রেই আবাস
কয়লা উত্তলোনকারী প্রতিষ্ঠানটি কর্মরত শ্রমিকের জন্য খনিটির পাশেই তৈরি করে দিয়েছিল বসবাসের জায়গা। আবাসগুলোর সামনে ছিল প্রশস্ত বাগান। সেখানে শ্রমিকরা মুরগি ও শুকর পালন করতে পারতেন। এমনকি কবুতর পালনের জন্যও ছিল ভালো ব্যবস্থা।

ছিল ভিনদেশী সহকর্মীও
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দক্ষিণ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও তুরস্ক থেকে কর্মীরা এ খনিটিতে শ্রমিক হিসেবে যোগদান করতে থাকে। ফলে এটি হয়ে ওঠে বহু-সংস্কৃতির একটি কেন্দ্রস্থল।

হুমকির মুখে পরিবেশ
গত কয়েক দশক ধরেই কয়লা খনির এ অঞ্চলটির বায়ু দূষিত হয়ে উঠছিল। এখানকার গাছপালার উপর এ খনিটির খারাপ প্রভাব পড়তে শুরু করে।

দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব
কয়লা খনিটির প্রভাব এতই মারাত্বক ছিল যে, কয়লা উত্তোলন সাময়িকভাবে বন্ধ করেও এর বিরূপ প্রভাব থেকে নিস্তার পাওয়া যাচ্ছিল না।কয়লা উত্তোলনের জন্য মাটি খননের ফলে যান চলাচলের রাস্তার মারাত্বক ক্ষতি হয়।

চিরস্থায়ী সমস্যা?
গত ১৫০ বছরে এলাকাটির বেশ কিছু অংশ প্রায় ২৫ মিটার পানির নিচে তলিয়ে গেছে৷ খনি থেকে যদি কয়লা সরিয়ে নেয়া হয়, তাহলে পুরো এলাকাটি প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেবে। এ অবস্থা ঠেকাতে বড় পাম্পের মাধ্যমে অবিরাম পানি নিষ্কাশন করা প্রয়োজন।

কী হবে এখানে?
কয়লা খনির বড় টাওয়ারগুলোর বেশিরভাগ অংশই ইতিমধ্যে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে৷ বিশাল অংশ জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে বিনোদন কেন্দ্র।ডিডাব্লিউ।

এএস