আফগানিস্তানে মোতায়েন বিদেশি সেনাবাহিনীর সাবেক অধিনায়ক জেনারেল স্টেনলি ম্যাক ক্রিস্টাল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ২০১৪ সালের শেষ নাগাদ যদি সব মার্কিন সেনাকে আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয় তাহলে সেদেশটিতে ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হতে পারে।
২০১৪ সালের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ব্যাপারে কংগ্রেসে ভোটাভুটির একই সময়ে জেনারেল স্টেনলি ম্যাক ক্রিস্টাল এ হুঁশিয়ারি দিলেন। তিনি আরো বলেছেন, সব সেনা সরিয়ে আনা হলে আফগানিস্তান আরেকটি ইরাকে পরিণত হবে। উল্লেখ করা যায়, সাবেক এ সেনা অধিনায়ক ‘রুলিঙ স্টোন’ সাময়িকীকে দেয়া সাক্ষাতকারে আফগানিস্তান ইস্যুতে তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনসহ অন্যান্য মার্কিন কর্মকর্তাদের তীব্র সমালোচনা করায় ২০১০ সালে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
জেনারেল ক্রিস্টাল আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হলে সেদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটবে বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন সে ব্যাপারে হোয়াইট হাউজের উদ্বেগের চাইতেও বড় কথা হচ্ছে, মার্কিন কর্মকর্তারা আসলে আফগানিস্তানের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি করে সেদেশে আরও দীর্ঘ মেয়াদে সেনা উপস্থিতি বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি সইয়ের জন্য কাবুলের ওপর মার্কিন কর্মকর্তারা প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে চলেছেন। এরই অংশ হিসেবে ন্যাটো মহাসচিব আন্দ্রেঁস ফগ রাস মুসেন দাবি করেছেন, ২০১৪ সালে পরও আফগানিস্তানে যদি বিদেশি সেনা মোতায়েন রাখার অনুমতি পাওয়া না যায় তাহলে সেদেশ ভয়াবহ নিরাপত্তা সংকটে পতিত হবে।
উল্লেখ করা যায়, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই ওয়াশিংটন-কাবুল প্রস্তাবিত নিরাপত্তা চুক্তির বিরোধিতা করে আসায় জেনারেল ক্রিস্টাল ও আন্দ্রেঁস ফগ রাসমুসেন একই ধরণের বক্তব্য দিলেন। এ ছাড়া, গত কয়েক মাস ধরে মার্কিন সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তারাও নানা রকম আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন কর্মকর্তারা সেনা প্রত্যাহারের ফলে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টির ভয় দেখিয়ে এবং আফগান সরকারকে সামরিক ও অর্থ সহায়তা বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়ে আসলে প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইকে নিরাপত্তা চুক্তিতে সই করতে বাধ্য করার চেষ্টা চালাচ্ছে। মার্কিন কংগ্রেস এরই মধ্যে আফগানিস্তানের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার জন্য দেয়া অর্থ সহায়তা গত বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে এনেছে। চলতি বছরের জন্য তারা কেবলমাত্র এক হাজার ১২০ কোটি ডলার আফগানিস্তানকে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা চলতি বছর আফগানিস্তানের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করার জন্য দুই হাজার ১৯০ কোটি ডলার দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট ওবামার দেয়া প্রস্তাবের অর্ধেক অনুমোদন দিয়েছে। আফগানিস্তানের সংবাদ ও রাজনৈতিক মহল কংগ্রেসের এ পদক্ষেপকে নিরাপত্তা চুক্তি সই করার জন্য কাবুলের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে, আফগানিস্তানের কর্মকর্তারা মনে করেন, সেদেশের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব যদি পুরোপুরি আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর ন্যস্ত করা হয় তাহলে কারো সহযোগিতা ছাড়াই তারা নিজেরাই পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে।
এদিকে, বিদেশি সেনারা আফগানিস্তানে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব ধীরে ধীরে আফগান কর্তৃপক্ষের হাতে ছেড়ে দেয়ায় এবং দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীও এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসায় পাশ্চাত্যের কোনো কোনো মহল দাবি করেছে, এর ফলে তালেবানদের হুমকি ফের বাড়বে এবং নিরাপত্তা ক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যও বিপদের মুখে পড়বে। এমন সময় তারা এ দাবি করছে যখন আফগানিস্তানে মোতায়েন বিদেশি সেনারা স্বীকার করেছে, দায়িত্ব হাতে নেয়ার পর এক বছরের বেশি সময় ধরে আফগান নিরাপত্তা বাহিনী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় যথেষ্ট সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে যা আমাদের ধারণা বাইরে ছিল। সূত্র: আইআরআইবি
[b]ঢাকা, ২৩ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডিডটকম) // ইএইচ
[/b]