আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) ভারতের জয়পুর সফরকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘ডন’-এর বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।
চুক্তির খসড়া নিয়ে কাতারে দফায় দফায় আলোচনা
মার্কো রুবিও জানান, ইরানের ওপর নতুন করে মার্কিন সামরিক হামলার পরও দু'পক্ষের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। বরং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এটি সম্ভব হতে পারে।
কাতারের রাজধানী দোহায় চলমান শান্তি আলোচনার সূত্র ধরে তিনি বলেন:
"আজ কাতারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছিল, তাই দেখা যাক আমরা কোনো অগ্রগতি করতে পারি কি না। আমার মনে হয় প্রাথমিক খসড়া নথির নির্দিষ্ট ভাষা নিয়ে এখন দফায় দফায় আলোচনা চলছে। এই ভাষাগত বিষয়গুলো চূড়ান্ত করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।"
একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনড় অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রুবিও বলেন, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চুক্তি করতে চান। তবে তিনি হয় একটি ভালো চুক্তি করবেন, না হয় কোনো চুক্তিই করবেন না।"
হরমুজ প্রণালি নিয়ে কঠোর অবস্থান
আলোচনা চললেও মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসীমা নিয়ে মার্কিন প্রশাসন কোনো ছাড় দেবে না বলে স্পষ্ট করেছেন রুবিও। হরমুজ প্রণালির প্রসঙ্গ টেনে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, "যেকোনোভাবেই হোক না কেন, বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান এই রুট (হরমুজ প্রণালি) অবশ্যই খোলা থাকতে হবে।"
পেছনের ঘটনা: যুদ্ধবিরতি ও নতুন করে উত্তেজনা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে ব্যাপক সামরিক হামলা চালানোর পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত দেশগুলোর ওপর পাল্টা আঘাত হানে এবং কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক লাফে আকাশচুম্বী হয়ে যায়।
পরবর্তীতে দীর্ঘ সংঘাতের পর গত ৮ এপ্রিল থেকে উভয় পক্ষ একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি মেনে চলছিল। তবে এই সময়েও হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে ইরান, অন্যদিকে মার্কিন নৌবাহিনীও ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।
আলোচনার দিনেই মার্কিন বিমান হামলা
দীর্ঘ ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা এই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গতকাল সোমবার (২৫ মে) ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালায় মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং সমুদ্রপথে মাইন পুঁতে রাখার চেষ্টায় লিপ্ত স্পিডবোটগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।
হতাশাজনক বিষয় হলো, কয়েক মাস ধরে চলা এই রক্তাক্ত সংঘাতের অবসান ঘটাতে ইরানের শীর্ষ আলোচকেরা যখন নতুন দফার আলোচনায় অংশ নিতে কাতারের দোহায় পৌঁছান, ঠিক তখনই এই মার্কিন হামলা চালানো হয়। এই হামলার ফলে চুক্তি নিয়ে নতুন করে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও এখনো আশার আলো দেখছেন।
এমএম