বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন চুল ধোয়ার ফলে স্বাভাবিকভাবেই নতুন চুল পড়ে না। কিন্তু এটি বিদ্যমান সমস্যাকে আরও প্রকট করে তুলতে পারে, যেহেতু যে চুলগুলো ইতিমধ্যেই প্রাকৃতিকভাবে ঝরে যাওয়ার পর্যায়ে রয়েছে সেগুলো ধোয়ার সময় আলগা হয়ে যায়। বিশেষ করে যাদের শুষ্ক বা সংবেদনশীল মাথার ত্বক তাদের ক্ষেত্রে কেমিক্যালযুক্ত হেয়ার প্রোডাক্ট ও গরম পানি দিয়ে বারবার চুল ধোয়ার অভ্যাস চুলের গোড়া দুর্বল করতে পারে।

কেন এমনটা ঘটে?

প্রতিদিন গরম পানি দিয়ে ধোয়ার ফলে মাথার ত্বক থেকে প্রাকৃতিক তেল বের হয়ে যেতে পারে, যার ফলে চুল শুকিয়ে যায় এবং ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। জোরালো স্ক্রাবিং বা রুক্ষ তোয়ালে দিয়ে শুকানোর ফলে চুলের স্ট্র্যান্ডের শারীরিক ক্ষতি হতে পারে।

শক্তিশালী সালফেটযুক্ত শ্যাম্পু মাথার ত্বকে জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে ঘন ঘন ব্যবহারে। ঘন ঘন ধোয়ার সঙ্গে স্টাইলিং পণ্যের অতিরিক্ত ব্যবহার ধীরে ধীরে চুলকে দুর্বল করে দিতে পারে।

স্কিন অ্যাপেনডেজ ডিসঅর্ডার (২০২১)-এ প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুসারে, গবেষকরা এশিয়ান চুলের ধরনের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে, লোকেরা কত ঘন ঘন শ্যাম্পু করে এবং চুল ও মাথার ত্বকের স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাবের দিকে বিশেষভাবে নজর দিয়েছে। জনপ্রিয় বিশ্বাসের বিপরীতে, তারা দেখেছে প্রতিদিন চুল ধোয়া চুল পড়া বা ক্ষতির কারণ হয় না। গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে ওষুধযুক্ত, খুশকি-বিরোধী শ্যাম্পুও অতিরিক্ত তৈলাক্ততা সৃষ্টি করে না।

ধোয়া বন্ধ করলে চুল স্বাস্থ্যকর হবে?

চুল ধোয়া এড়িয়ে গেলে তা চুলকে মজবুত করে না বা ঝরে পড়া কমায় না, যেহেতু স্বাভাবিক চুল পড়া তার নিজের প্রাকৃতিক চক্রে ঘটতে থাকে। চুল পরিষ্কার না করে দীর্ঘদিন থাকলে বরং তা মাথার ত্বকে নানা সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। তাই কম বা বেশি ধোয়া নয়, বরং আপনার চুল এবং স্ক্যাল্পের ধরন বুঝে সঠিক শ্যাম্পু এবং হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্ট বেছে নেওয়াটাই হবে সঠিক উপায়।

এমএম